নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দারুণ এক জয় দিয়ে নিজেদের বিশ্বমঞ্চের মিশন শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। মাঠের চারদিকের চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স আর নিয়ন্ত্রিত ক্রিকেট খেলে বাঘিনীরা এই টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তির জানান দিল। প্রথম ম্যাচেই এমন দাপুটে জয় নিশ্চিতভাবেই পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলকে মানসিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে রাখবে।
এজবাস্টনের উইকেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ডাচরা। তবে ইনিংসের শুরু থেকেই বাংলাদেশী বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের সামনে বেশ চাপের মুখে পড়ে তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় নেদারল্যান্ডস। দলটির পক্ষে সবচেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওপেনার ও অধিনায়ক বাবেতে লিডে। তিনি দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরিচয় দিয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। অধিনায়কের এই লড়াকু ফিফটি ছাড়া মিডল অর্ডারে হিদার সিগার্স ১৬ রান এবং লোয়ার অর্ডারে রবিন রিজকে ১৩ রান করেন। বাকি ব্যাটাররা বাংলাদেশী বোলারদের তোপের মুখে দাঁড়াতেই পারেননি। ফলে ডাচদের সংগ্রহ ১৪০ রানের কাছাকাছি গিয়ে থেমে যায়।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ও নিয়ন্ত্রিত স্পেল করেন তরুণ পেসার মারুফা আক্তার। নিজের কোটার ৪ ওভারে ৩১ রান খরচ করে গুরুত্বপূর্ণ ২টি উইকেট শিকার করেন তিনি। তাঁর করা শুরুর ওভারগুলো ডাচদের রানের গতি অনেকটাই টেনে ধরেছিল। মারুফা আক্তার ছাড়া বাকি বোলাররাও চমৎকার দলগত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মনি প্রত্যেকেই একটি করে উইকেট নিয়ে ডাচদের বড় স্কোরের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন। বোলারদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।
১৪০ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই কিছুটা ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দ্রুত টপ অর্ডারের উইকেট হারিয়ে সাময়িক চাপে পড়লেও সেই চাপকে দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তাঁর লড়াকু ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে টাইগারেসরা। মাঠের চারদিকে অনবদ্য শটের ফুলঝুরি ফুটিয়ে মাত্র ৩৩ বলে ৫০ রানের এক অনবদ্য ঝড়ো ইনিংস খেলেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। তাঁর এই লড়াকু হাফসেঞ্চুরিতে ছিল ৭টি দৃষ্টিনন্দন চার ও ২টি বিশাল ছক্কার মার। জুয়াইরিয়াকে যোগ্য সঙ্গ দেন আরেক ব্যাটার দিলারা আক্তার, যিনি ২৬ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে দলের প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন।
টপ অর্ডারের বিদায়ের পর শেষদিকে জয়ের বাকি আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় সম্পন্ন করেন শারমিন আক্তার। দলের প্রয়োজন বুঝে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে তিনি জয়ের পথ সুগম করেন। উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৭ বলে অপরাজিত ৩৭ রানের একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদিকে অন্য প্রান্তে তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দেন সোমা আক্তার। সোমা ১৮ বলে অপরাজিত ১৮ রান যোগ করে জয়ের ব্যবধান কমিয়ে আনেন। এই দুই ব্যাটারের অবিচ্ছিন্ন ও পরিপক্ব জুটির ওপর ভর করে ১৯.১ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।
ফলশ্রুতিতে নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই উড়ন্ত জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশের মেয়েরা। ব্যাট হাতে জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের দুর্দান্ত অর্ধশতক, দিলারা ও শারমিনের সময়োপযোগী অবদান এবং বল হাতে মারুফা আক্তারের অসাধারণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং এই মহাগুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে টেবিলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের দৌড়ে নিজেদের ভালোভাবেই টিকিয়ে রাখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।