পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই একাধিক সুযোগ নষ্ট করেছে। খেলা যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন শেষ মুহূর্তে নায়ক হয়ে আবির্ভূত হন আমাদ দিয়ালো। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে তাঁর করা একমাত্র গোলেই ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে আইভরি কোস্ট। সোমবার (১৫ জুন) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে শেষ হাসি হাসে পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম পরাশক্তিরা।
ম্যাচে ৫১ শতাংশ সময় ইকুয়েডর বল দখলে রাখলেও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আইভোরি কোস্ট। বিশেষ করে শেষদিকে তারা বেশ আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। গোলের উদ্দেশে ১৬টি শট নিয়ে ৪টি গোলমুখে রাখে তারা। অন্যদিকে ১০ শটের মাত্র ১টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইকুয়েডর। তবে কপাল মন্দ না হলে প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেত পারত দলটি।
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর। ১১তম মিনিটে এননার ভ্যালেন্সিয়া এবং দুই মিনিট পর জন ইয়েবোয়াহ গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ১৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে বাজাউমানা তোরের শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। পরের মিনিটে ইলায়ে ওয়াহির প্রচেষ্টা সহজেই রুখে দেন গোলরক্ষক হার্নান গালিনদেস।
প্রথমার্ধে সবচেয়ে দুর্ভাগা ছিলেন ইকুয়েডরের অ্যালান মিন্ডা। ২৩তম ও ৩০তম মিনিটে তাঁর দুটি দুর্দান্ত শটই ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিকোলাস পেপেসহ কয়েকজন খেলোয়াড় সুযোগ তৈরি করলেও ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পরও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ৫০তম মিনিটে ইয়ান ডিওমান্ডের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, ৫৫তম মিনিটে ইকুয়েডরের পেদ্রো ভিতের নিচু শটও ঠিকানা খুঁজে পায়নি। ৫৮তম মিনিটে গোলমুখের কাছ থেকে সুযোগ নষ্ট করেন ডিওমান্ডে, আর ৬০তম মিনিটে সেকো ফোফানার শট সহজেই ধরে ফেলেন গালিনদেস। ৬৮তম মিনিটে গঞ্জালো প্লাতার দূরপাল্লার শটও আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানার হাতে জমা পড়ে।
ম্যাচের শেষদিকে জয়ের আশায় দুই দলই একাধিক পরিবর্তন আনে। তবে গোলের দেখা মিলছিল না। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের ৯০তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন আমাদ দিয়ালো। সতীর্থের পাস ধরে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে ইকুয়েডরের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। যোগ করা অতিরিক্ত সাত মিনিটে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি ইকুয়েডর। ফলে দিয়ালোর শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে আইভরি কোস্ট।