ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

এসএসএফ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

জনগণের ভালোবাসা ও বিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় নির্ভরতা: তারেক রহমান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬ সময় : ২:৫৯ পিএম

একটি বিশেষায়িত ও অভিজাত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই বলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পটভাবে উল্লেখ করে বলেন, “এসএসএফ যখন দেশের একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সূচনাকালের সময়ের সঙ্গে বর্তমান আধুনিক সময়ের অনেক তফাত ও বৈচিত্র্য রয়েছে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, বিশ্ব ভূ- geopolitics বা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ ও বৈপ্লবিক বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নতুন নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।”

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর গৌরবময় ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের তরুণ বেলা থেকেই এসএসএফের সামগ্রিক কার্যক্রমের সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়ার স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সরকার প্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন এবং প্রতি মুহূর্তেই আমি এসএসএফের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও কার্যক্রম অত্যন্ত কাছ থেকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার এই চাক্ষুষ পরিচয় কিন্তু একদম নতুন নয়। আমার পরম শ্রদ্ধেয় জননী ও সাবেক মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশের সরকার প্রধান হিসেবে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন, তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এই বাহিনীর পেশাদার কার্যক্রমের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত।”

তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে আরও বলেন, “জননেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর শুধু বাংলাদেশেই নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের সামগ্রিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম ও নজিরবিহীন নামাজে জানাজা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ পর্দার আড়ালে থেকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ঐতিহাসিক সেই অবদানের জন্য আমি এসএসএফ-এর প্রতিটি সদস্যকে আমার নিজের এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”

প্রধানমন্ত্রী আধুনিক বিশ্বের নতুন ধরণের নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যদেরকে সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। এসএসএফের এই স্মরণীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নিজের একটি গভীর ব্যক্তিগত ও বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি সবার সাথে শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবচেয়ে বড় সত্য হলো, দেশের গণতান্ত্রিক সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের অকৃত্রিম বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে বেশি শক্তি ও নির্ভরতা। সুতরাং, আধুনিক নিরাপত্তার কোনো কৃত্রিম ঘেরাটোপ বা অতি-সতর্কতা যাতে দেশের সরকার প্রধানকে সাধারণ জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি অত্যন্ত সফিসটিকেটেড বা আধুনিক বাহিনী হিসেবে সেদিকে আপনাদের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি বিনীত আহ্বান জানাই।”

প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ম্যান্ডেটের কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট ও সমর্থন পাওয়ার পর, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিয়ম অনুযায়ী সরকার প্রধান হিসেবে এসএসএফ আমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিপুণভাবে গ্রহণ করেছে। আপনারা ইতিমধ্যেই জানেন যে, জনগণের রাজপথে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ লাঘব করতে এবং সড়কে সাধারণ যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি নিজেই আমার ভিআইপি গাড়িবহরের (কনভয়) আকার অনেক সীমিত করে এনেছি। ফলে বিদ্যমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা ও গাড়ির বহর বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো নিজেদের সর্বোচ্চ দক্ষতা এবং আধুনিক নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা এই সীমিত সম্পদের মধ্যেও যথাসম্ভব অত্যন্ত সুন্দর ও সুচারুভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন, এ জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।”

সরকার প্রধান আরও বলেন, “একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও জনগণের সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই আমাকে জনসভা, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের জনবান্ধব অনুষ্ঠানে স্বভাবতই ব্যাপক ও লাখো জনসমাগমের সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল ও সংবেদনশীল। এই ধরণের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে সাধারণ নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ও চলাচল নিশ্চিত রাখা—এই দুটির মধ্যে নিখুঁত ভারসাম্য বা ব্যালেন্স রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের পেশাদার নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। আমি মনে করি, এ ধরণের জটিল পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এসএসএফের আন্তর্জাতিক মানের কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।”

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, “কিছুক্ষণ আগেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছি এবং বাহিনীর সদস্যদের চৌকস উদ্বোধনী মহড়াও অত্যন্ত মুগ্ধতার সাথে প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা ও নিখুঁত নিশানা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জটি নিঃসন্দেহে বিশেষ ও কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। আমি আশা করি, নিত্যনতুন নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ও নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।”

২০০২ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এসএসএফের মূল নির্দেশিকা বা ‘রেড বুক’ সময়ের আধুনিক চাহিদানুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে পুনরায় সংস্কার ও যুগোপযোগী করে আরও আধুনিক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই সংশোধিত ‘রেড বুক’ এসএসএফের সার্বিক কার্যপদ্ধতি এবং কর্মপদ্ধতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কাজের আইনি সুরক্ষাও পুরোপুরি নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য রেড বুকে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ প্রতিটি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে অনুসরণ করা অবশ্য জরুরি। তবে রেড বুকের লিখিত নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠের সময় এবং তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নেরও পর্যাপ্ত সুযোগ ও স্বাধীনতা আপনাদের রয়েছে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফের মতো একটি এলিট ও বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং উচ্চ প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত সাহস, সততা, অবিচল বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি বাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ বা চেইন অব কমান্ডের এই বিষয়গুলো কঠোর ও আপসহীনভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন, “রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অতি ভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় ও নিচ্ছিদ্র করতে দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সাঙ্গে গভীর সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফকে মূল নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, এই আন্তঃবাহিনী সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে সুচারু করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।”

বক্তব্যের একেবারে শেষভাগে বাহিনীর সদস্যদের মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, “আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে আপনাদের গভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অবশ্যই আপনারা রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সবসময় সর্বোচ্চ প্রাধান্য ও ফার্স্ট প্রায়োরিটি দেবেন। তবে মাঠপর্যায়ে কড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাধারণ জনগণ যাতে কোনোভাবেই দুর্ব্যবহার, হেনস্থা বা রুক্ষ আচরণের শিকার না হয়, সে দিকেও আপনাদের বিশেষভাবে সতর্ক ও যত্নশীল থাকতে হবে। দেশের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং দেশপ্রেমের মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ আগামীতেও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের পবিত্র দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলেই আমার বিশ্বাস।”


এ সম্পর্কিত আরো খবর