ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ১২ হাজার ৭৬০ কোটি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬ সময় : ৯:২২ পিএম

সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে গত বছর বাংলাদেশিদের টাকা জমার পরিমাণ নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক’ বা এসএনবি-এর প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক নথিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশিরা যে হারে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন, তা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিক এবং বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর জমা রাখা অর্থের পরিমাণ এক লাফে ৪aligned১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিশাল উল্লম্ফনের ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট অর্থ আমানতের পরিমাণ আগের সব রেকর্ডকে প্রায় স্পর্শ করে ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে এক সুইস ফ্রাঁর বিনিময় মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫২ টাকারও বেশি।

এসএনবি-এর তথ্য অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর টাকা জমার এই প্রবৃদ্ধির হার দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীত বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর আগে ২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডের শতাধিক ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ৮৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল। সেটিই ছিল সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের এ যাবৎকালের সর্বকালের সর্বোচ্চ পরিমাণ জমা করা অর্থ। তবে গত বছর আমানতের এই নজিরবিহীন উল্লম্ফনে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি গ্রাহকদের মোট তহবিলের পরিমাণ ২০২১ সালের সেই সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের ঠিক নিচে এসে অবস্থান করছে।

সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এবারের এই বিশাল উল্লম্ফনের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি বা ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত বৃদ্ধি। এক বছর আগের তুলনায় বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত প্রায় ৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছর আগে যেখানে ব্যাংকগুলোর জমার পরিমাণ ছিল ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, সেটি ২০২৫ সালে এসে এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে। এছাড়া গত বছর সুইস বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব তহবিল। যেখানে তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগের বছরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এই হার ২০২৩ সালে ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ছিল ৩৫ শতাংশ। সেই তুলনায় বর্তমানের এই হার অনেক বেশি এবং নজিরবিহীন।

তবে প্রাতিষ্ঠানিক আমানত বাড়লেও সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে আমানত ছিল ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, সেখান থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে।

আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এসএনবি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ আমানত নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটির ব্যাংকগুলো। যদিও ভারতের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় তাদের মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীতমুখী অবস্থানে থেকে বাংলাদেশের আমানতের পরিমাণ এক বছরে বেড়েছে ৪১ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে সুইস ব্যাংকে আমানতের বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটি থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ আমানতের হার প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে শতাংশের হারে বৃদ্ধি পেলেও সুইস ব্যাংকে আফগানিস্তানের নাগরিক ও ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের পরিমাণ মাত্র ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ।

অতীতের রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ তার আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। ওই বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঁ; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০৩ কোটি টাকার বেশি। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ। এছাড়া ২০১৮ সালে এই অর্থের পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি সুইস ফ্রাঁ এবং ২০১৭ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান ও নিয়মনীতি অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ‘মোট দায়ের’ মধ্যে ব্যক্তিগত, ব্যাংক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক উদ্যোগের আমানতসহ সব ধরনের আর্থিক তহবিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বৈধ ও অবৈধ উভয় পথেই উপার্জিত অর্থ গচ্ছিত রাখেন। মূলত দেশটির কঠোর গোপনীয় ব্যাংকিং নীতির কারণেই সারা দুনিয়ার ধনকুবের ও প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে অর্থ জমা রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সুইজারল্যান্ডের আইনে গ্রাহকদের তথ্যের গোপনীয়তা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে রক্ষার নিয়ম রয়েছে। এই আইনের কারণে দেশটির ব্যাংকগুলো কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়াও সাধারণ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের তথ্য কারও কাছে প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। ফলে কারা, কেন অথবা কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে রাখছেন, সে সম্পর্কে সুইস ব্যাংকগুলো বাইরের কাউকে কোনো তথ্য দেয় না। তবে সম্প্রতি এই কঠোর গোপনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা প্রশ্ন ওঠায় এবং তীব্র সমালোচনা দেখা দেওয়ায় অনেক গ্রাহকই এখন সুইজারল্যান্ডের ব্যাংক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বা অফশোর ট্যাক্স হ্যাভেনে তাদের অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর