আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের ম্যাচে রেফারিং নিয়ে চরম অসন্তোষ জানিয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে আলজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাচটিতে রেফারির পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা ফিফার রেফারিং কমিশনে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদী চিঠি পাঠিয়েছে। গত সপ্তাহে কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ওই হাইভোল্টেজ ম্যাচে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আলজেরিয়া শিবিরের ভেতরে তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভের তৈরি হয়। আলজেরিয়ার পক্ষ থেকে করা অভিযোগে বিশেষভাবে প্রথমার্ধের একটি ঘটনার কথা জোরালোভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে পরিষ্কার দেখা যায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মান্দির কাফে পা দিয়ে আঘাত করেন। আলজেরিয়ার দাবি, ঘটনাটি ছিল পেছন থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও উচ্চভাবে তোলা বুটের আঘাত, যা ফুটবল নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি লাল কার্ডের উপযুক্ত ছিল।
তবে মাঠে থাকা রেফারি লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। এই বিতর্কিত ঘটনার পরেই ম্যাচে মেসি দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনার বড় জয় নিশ্চিত করেন। ফলে পুরো বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। অনেক ফুটবল ভক্ত ও দর্শক সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, বড় তারকা খেলোয়াড় হওয়ার কারণেই কি মেসি সে যাত্রায় নিশ্চিত লাল কার্ড ও শাস্তি এড়িয়ে গেছেন কি না। আলজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া অভিযোগপত্রে দ্বিতীয়ার্থের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কথাও স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি কনুইয়ের জোরালো আঘাত আলজেরিয়ার ফুটবলার ইবরাহিম মাজা’র মুখে লাগে। ঘটনাটি ঘটেছিল ম্যাচের ঠিক শেষ দিকে, যখন মাঠের মূল রেফারি পোল্যান্ডের সাইমন মার্সিনিয়াক ঘটনাস্থল থেকে খুব কাছেই অবস্থান করছিলেন বলে আলজেরিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। তবে ওই মারাত্মক ঘটনাতেও রেফারি কোনো ফাউলের বাঁশি বাজাননি বা কার্ড দেখাননি।
অভিজ্ঞ এই রেফারি সাইমন মার্সিনিয়াক ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচেও প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এবারও আর্জেন্টিনার ম্যাচ পরিচালনার পর তাঁর নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে আলজেরিয়ার অভিযোগ শুধু মাঠের প্রধান রেফারির সিদ্ধান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) টিমের ভূমিকা নিয়েও চরম প্রশ্ন তুলেছে। এই প্রযুক্তির দায়িত্বে ম্যাচটিতে নেতৃত্বে ছিলেন পোল্যান্ডের তমাস কিয়াতোস্কি। আলজেরিয়ার মতে, ম্যাচের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও টার্নিং মুহূর্তে প্রযুক্তির সঠিক ও নিরপেক্ষ ব্যবহার করা হয়নি। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গন থেকেও একের পর এক কড়া প্রতিক্রিয়া আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হুগো ব্রুস এক মন্তব্যে বলেন, মেসির এই ফাউলের ঘটনার সঙ্গে তাঁর দলের এক খেলোয়াড়ের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার তুলনা করলে তিনি কোনোভাবেই একমত হতে পারছেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে রেফারিদের সিদ্ধান্তে এত বড় পার্থক্য কেন হবে? তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, মেসির মতো তারকা খেলোয়াড়দের বিশ্বমঞ্চের মাঠে থাকাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, যদিও ফাউলের সিদ্ধান্তগুলোতে সবার ক্ষেত্রে সমতা থাকা উচিত। এদিকে ফিফার পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। আগামী সোমবার আর্জেন্টিনা ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে, অন্যদিকে আলজেরিয়া সান ফ্রান্সিসকোতে জর্ডানের মুখোমুখি হবে।