ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

স্বাস্থ্যখাতে তৎপরতা সাধুবাদযোগ্য

দুদককে পঙ্গু করে রাখার নেপথ্যে কারা: রাঘববোয়ালদের রক্ষায় কি রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা?


  • আপলোড সময় : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:০৭ পিএম

আব্দুল কাইয়ুম খান, বিশেষ প্রতিনিধি:

দেশের স্বাস্থ্যখাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আকস্মিক পরিদর্শন ও নানামুখী তৎপরতা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী, যিনি নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাঁর রণাঙ্গনের সাহসিকতা নিয়ে কোনো ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, দালালচক্র এবং ওষুধ চুরির বিরুদ্ধে যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, তা সর্বমহলে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা তাঁর কর্তব্যেরই অংশ। তবে স্বাস্থ্যখাতের এই খণ্ডচিত্র যখন আমরা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোেক বিশ্লেষণ করি, তখন একটি বড় প্রশ্ন সামনে চলে আসে—উন্নয়নের প্রধান শত্রু যে দুর্নীতি, তা দমনে রাষ্ট্র সামগ্রিকভাবে কতটা আন্তরিক? স্বাস্থ্যের বাইরে অন্য সব গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুর্নীতির যে ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে, তা রোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকাটা সত্যিই হতাশাজনক।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের দুর্নীতির চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স বা দুর্নীতি ধারণা সূচক ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিক থেকে ১৪৯তম। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে দেশের সুশাসনের অভাব কতটা প্রকট। বর্তমানে ভূমি অফিস, পুলিশ প্রশাসন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বিআরটিএ, শিক্ষা খাত, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা এলজিইডি, ওয়াসা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের মতো অতি জরুরি নাগরিক সেবা খাতগুলোতে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডি-এর একটি সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রতি বছর কেবল সরকারি কেনাকাটায় দুর্নীতির কারণেই রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা অপচয় বা লোপাট হয়ে যায়। এর বাইরে যদি কর ফাঁকি, বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচার এবং মেগা প্রকল্পের নামে হওয়া লুটপাট হিসাব করা হয়, তবে সেই ক্ষতির অঙ্ক প্রতি বছর কয়েক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

অথচ বিশ্বেই সততা ও কঠোর নীতি প্রয়োগ করে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার অনন্য উদাহরণ রয়েছে। ১৯৬৫ সালে যখন সিঙ্গাপুর স্বাধীনতা লাভ করে, তখন সেটি ছিল একটি অতি দরিদ্র জেলে-গ্রাম। তাদের নিজস্ব কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল না, এমনকি সুপেয় পানির জন্য পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভর করতে হতো। সেই ভঙ্গুর রাষ্ট্রটিকে আজকের আধুনিক ও বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী রাষ্ট্রে রূপান্তর করেছিলেন দেশটির দূরদর্শী নেতা লি কুয়ান ইউ। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' বা শূন্য সহনশীলতা নীতি। লি কুয়ান ইউ ক্ষমতায় এসেই দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করেছিলেন। রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এতটাই কঠোর ছিলেন যে, নিজের অতি ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ক্যাবিনেট মন্ত্রীদেরও দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারে পাঠাতে দ্বিধা করেননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, যদি কেউ সত্যিকার অর্থে দুর্নীতিকে পরাজিত করতে চায়, তবে তাকে নিজের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদেরও জেলে পাঠানোর জন্য মানসিক প্রস্তুত থাকতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিচার করলে দেখা যায়, আমাদের উর্বর ভূমি, ভৌগোলিক সুবিধা, সমুদ্রবন্দর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তির মতো অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। সিঙ্গাপুরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট আমাদের নেই, যা নেই তা হলো লি কুয়ান ইউ-এর মতো সুদৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার ৯ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিশাল অঙ্কের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করেছে, কিন্তু দুর্নীতির বিশাল খাদের কারণে এই বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারছে না। বাজেটের একটি বিশাল অংশ সুকৌশলে দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে যাচ্ছে, ফলে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।

অথচ সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, যার প্রমাণ আমরা দেখেছি ছদ্মা সেতু, মেট্রোরেল কিংবা কর্ণফুলী টানেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার যেভাবে গতি দেখিয়েছে, দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদককে শক্তিশালী ও স্বাধীন করার ক্ষেত্রে তার এক শতাংশ গতিও লক্ষ্য করা যায় না। উল্টো এক অদ্ভুত উদাসীনতায় বিগত কয়েক মাস ধরে দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনারের মতো শীর্ষ পদগুলো শূন্য পড়ে রয়েছে, সেখানে কোনো নতুন নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী কমিশনকে যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও সরকারের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নিতে হয়। এর ওপর রয়েছে তীব্র জনবল সংকট এবং নিজস্ব দক্ষ প্রসিকিউটরের অভাব। যে প্রতিষ্ঠানটির ওপর দেশের দুর্নীতি উপড়ে ফেলার দায়িত্ব, আইনি ও প্রশাসনিক বেড়াজালে তাকে কার্যত পঙ্গু ও অকার্যকর করে রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতি এটাই প্রমাণ করে যে, মুখে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ফাঁকা বুলি আওড়ানো হলেও বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সদিচ্ছা নীতিনির্ধারকদের নেই। চারদিকে শুধু স্তাবকতা আর চাটুকারিতার সংস্কৃতি চলছে, আসল সংকটের কথা কেউ উচ্চবাচ্য করছে না। সরকারের শীর্ষ পর্যায়কে এই সহজ অর্থনৈতিক সমীকরণটি কেউ বুঝিয়ে দিচ্ছে না যে, দেশের কর ফাঁকি এবং সব খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যদি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়, তবে বার্ষিক বাজেট প্রণয়নের জন্য বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ-এর মতো বিদেশি সংস্থার ঋণের ওপর নির্ভর করতেই হবে না। দেশের অসৎ সরকারি কর্মকর্তা ও আমলাদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ এবং বিদেশে পাচার করা বিপুল অর্থ যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনা সম্ভব হয়, তবে তা দিয়েই আমাদের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন বাজেটের সম্পূর্ণ জোগান দেওয়া সম্ভব।

এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে মুক্ত করতে 'দুর্নীতি বিরোধী অভিযান'-এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রথমত, দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেশের নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও শক্তিশালী সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। এর চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়াটি একটি নিরপেক্ষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে সম্পন্ন করতে হবে এবং সরকারের আগাম অনুমতি ছাড়াই যেকোনো দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা দায়েরের পূর্ণ আইনি ক্ষমতা দুদককে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশের সব সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, সচিব, জেলা প্রশাসক বা ডিসি, পুলিশ সুপার বা এসপি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও এবং প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের প্রতি বছরের অর্জিত সম্পদের হিসাব বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ওয়েবসাইটে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তার আয়ের উৎসের সাথে যদি এই সম্পদের সামান্যতম অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তবে দুদক যেন কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তদন্ত শুরু করতে পারে, সেই আইনি সংস্কার করতে হবে।

তৃতীয় দাবি হলো, দুর্নীতিবাজরা যেন তাদের অবৈধ সম্পদ অন্যের নামে লুকিয়ে রাখতে না পারে, সেজন্য একটি কঠোর 'বেনামি সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ আইন' পাস করতে হবে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী, সন্তান বা দূরবর্তী আত্মীয়দের নামে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন, তবে কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই তা সরাসরি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে। চতুর্থত, দুর্নীতির বিচার প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক করতে হবে। একই সাথে অপরাধীর শুধু কারাদণ্ড দিলেই হবে না, বরং আত্মসাৎকৃত বা পাচারকৃত অর্থের সমপরিমাণের ন্যূনতম ৩ গুণ অর্থ জরিমানা হিসেবে আদায় করতে হবে। পঞ্চমত, সরকারকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বাস্তব প্রমাণ দিতে হবে। সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ-এর আদর্শ অনুসরণ করে চুনোপুঁটি বা চুনোপুঁটিদের ধরে বাহবা নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করে, নিজ দলের ভেতরের বড় বড় রাঘববোয়াল ও প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রথমে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দেশে আইনের শাসনের নজির স্থাপন করতে হবে।

এর পাশাপাশি একটি অতিরিক্ত দাবি হলো, দুদককে প্রশাসনিক ও কৌশলগতভাবে কার্যকর করতে দেশের অবসরপ্রাপ্ত সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। যারা তাদের দীর্ঘ চাকরি জীবনে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিত, অন্যায্য বদলি কিংবা পদোন্নতি বঞ্চনার শিকার হয়েছেন, সেই পরীক্ষিত সৎ ব্যক্তিদের দুদকের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এই সমস্ত কর্মকর্তাদের নতুন করে কর্মজীবনে হারানোর কোনো ভয় নেই, তারা লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তারা নিজেরা প্রশাসনের অংশ থাকায় সরকারি দপ্তরের ভেতরের দুর্নীতির গোপন কৌশল ও ফাঁকফোকরগুলো খুব ভালোভাবেই জানেন। কর্মজীবনে তারা সততার যে কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন, রাষ্ট্রকে এখন তাদের সেই অভিজ্ঞতা ও সততাকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ একজন সৎ কর্মকর্তা চাকরি থেকে অবসরে গেলেও তাঁর নৈতিকতা ও সততার কখনো অবসর হয় না।

পরিশেষে বলা যায়, দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এটিই প্রমাণ করে যে, যদি শীর্ষ পর্যায়ে সদিচ্ছা থাকে তবে যেকোনো খাতের পরিবর্তন করা সম্ভব। তিনি একজন বীর মুক্তিসেনা, যিনি ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে ভয় পাননি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আজকেও তিনি দেশের ভেতরের কোনো কালোবাজারি বা দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটকে ভয় পাবেন না। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল একটি মন্ত্রণালয়ের একক বা বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা দিয়ে পুরো দেশের আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সিঙ্গাপুরের মতো পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে একযোগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করলেই দেশ উন্নত হয় না, বরং ৯ লাখ কোটি টাকার সততাই পারে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে। রাষ্ট্রকে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা কি লি কুয়ান ইউ-এর পথ অনুসরণ করে ইতিহাসের পাতায় অমর হবে, নাকি দুর্নীতিবাজদের পাহারাদার হিসেবে নিজেদের জাহির করবে? দেশের সাধারণ জনগণ এখন এই প্রশ্নের চাক্ষুষ উত্তরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর