ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

রায়পুরে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৫ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৫৩ পিএম

রায়পুর( লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় মা ও দুই মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও এক মেয়ে। নিহতরা হলেন—শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার দুই মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) ও শিফা আক্তার (৯)।

দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় বসবাস করা পরিবারটির ওপর এমন আকস্মিক হামলায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে জীবনসংগ্রামে টিকে ছিলেন শাহিনুর। বড় মেয়ে সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ বাসায় ঢুকে এক যুবক শাহিনুর ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঘাতক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ৭ পুলিশ সদস্যও আহত হন।


রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে মা শাহিনুর বেগম ও দুই মেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত যুবকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে, তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে নজরদারিতে রেখেছে এবং সুস্থ হওয়া মাত্রই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শোকের আবহে এলাকাবাসী দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর