দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় বসবাস করা পরিবারটির ওপর এমন আকস্মিক হামলায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল কয়েক বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে জীবনসংগ্রামে টিকে ছিলেন শাহিনুর। বড় মেয়ে সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে হঠাৎ বাসায় ঢুকে এক যুবক শাহিনুর ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ঘাতক যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে ৭ পুলিশ সদস্যও আহত হন।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ৫ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে মা শাহিনুর বেগম ও দুই মেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গণপিটুনির শিকার অভিযুক্ত যুবকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে, তাকেও উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হলেও তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে নজরদারিতে রেখেছে এবং সুস্থ হওয়া মাত্রই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শোকের আবহে এলাকাবাসী দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর