উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি : / : 105
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘ম্যাংগো লাভার’ নামের একটি জনপ্রিয় অনলাইন ফল বিপণন প্রতিষ্ঠানে গভীর রাতে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত ওয়ালটন শোরুম ভবনের চতুর্থ তলায় এই নারকীয় তাণ্ডব চালানো হয়। হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই তরুণ কর্মচারী মারাত্মক জখম হয়েছেন এবং ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ টাকারও বেশি লুটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রক্তাক্ত দুই কর্মীকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাসেল ও আশিক নামের দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত। শুক্রবার রাতে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে হঠাৎ ‘ম্যাংগো লাভার’ কার্যালয়ে ঢুকে তাণ্ডব শুরু করে। সন্ত্রাসীরা ভেতরের সিসি ক্যামেরা, কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং দামি আসবাবপত্র পিটিয়ে চুরমার করে দেয়। এ সময় কার্যালয়ে ডিউটিরত কর্মচারী সাকিব ও তামিম হামলাকারীদের বাধা দিতে গেলে তাদের ওপর লোহার রড ও লাঠি নিয়ে চড়াও হয় দুর্বৃত্তরা। এতে তাদের হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই হামলার ঘটনায় রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভর সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মুরাদ পারভেজ। তবে সাবেক কাউন্সিলর শুভ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ভবনের নিচে অবস্থান করে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন এবং নিজে ওপরে যাননি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মুরাদ পারভেজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি বড় সন্ত্রাসী দল তাঁর অফিসে আকস্মিক এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা ক্যাশ বাক্স ভেঙে আম বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকার আসবাব ও ইলেকট্রনিক্স মালামাল ভাঙচুর করেছে। হামলার সময় তিনি নিজে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে আত্মরক্ষা করেন। অনলাইনে আম বিক্রি করেই তাঁর সংসার চলে উল্লেখ করে তিনি এই ধ্বংসযজ্ঞের বিচার চান। ঘটনার পর পবা থানার টহল দলের উপপরিদর্শক (এসআই) আসিব নাসিব দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, অফিসের ভেতরে দুটি ল্যাপটপ তারের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং টেবিলের কাচ ভাঙা অবস্থায় মেঝেতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। প্রাথমিক ধস্তাধস্তি ও মারামারির কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।