জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে প্রাণভয়ে ঝুলে থাকা এক তরুণকে নৃশংসভাবে গুলি এবং আরও দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করা হচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ এই মামলার মোট আসামির সংখ্যা পাঁচজন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করবেন। এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম এবং বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ইতিমধ্যে আরও চারটি মামলার রায় প্রকাশ করা হয়েছে। এটি হতে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায়। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, অপরাধ প্রমাণে তারা আদালতে মোট ১৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন।
এই মামলার পাঁচজন আসামির মধ্যে চারজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। পলাতক আসামিরা হলেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (ইতিমধ্যে চানখাঁরপুলের অপর একটি মামলায় তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলার অপর আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকায় মো. নাদিম হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগটি হলো, একই দিন বনশ্রী এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে প্রাণ বাঁচাতে ঝুলে থাকা আমির হোসেন নামের এক তরুণকে গুলি করে গুরুতর জখম করা হয়। আর তৃতীয় অভিযোগটি হলো, ওই দিনই (২০২৪ সালের ১৯ জুলাই) বিকেলে বনশ্রী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু বাসিত খান মুসার মাথা ভেদ করে চলে যাওয়া বুলেটের আঘাতে তার দাদি মায়া ইসলাম নিহত হন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। সেই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত বছরের ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। এরপর একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বছরের ২৩ অক্টোবর এবং তা শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। পরবর্তীতে ৩ ফেব্রুয়ারি মামলায় উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন।
এর আগে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য গত ৪ মার্চ দিন ধার্য করেছিলেন। তবে প্রসিকিউশন পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন রায় ঘোষণা সাময়িক স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৫ জুন ট্রাইব্যুনাল নতুন আদেশ জারির মাধ্যমে আজ, অর্থাৎ ২৮ জুন এই মামলার রায় ঘোষণার চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করেন।