প্রতিনিধি(ঈশ্বরদী ) প্রতিনিধি
ঈশ্বরদীর চরকুড়ুলিয়া আদর্শ বিদ্যা নিকেতনের দুঃশ চরিত্রবান কথিত প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার অনৈতিক কর্মকান্ড, অসংখ্য শিক্ষার্থীর শ্লিলতাহানী,কথিত মারপিটের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা করে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করার সুষ্ঠ বিচার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে রবিকবার বিকেলে । পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল খাতুন পরিবারের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন,আলি আমিন,জান্নাতুল খাতুন ও তার মাতা লিপি খাতুন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে,শীøলতাহানীর শিকার জান্নাতুলের খালাতো বড় ভাই আল আমিন, মাতা লিপি খাতুন ও জান্নাতুল খাতুন অভিযোগ করে বলেন,
আমি নিয়মিত ক্লাস করা কালিন সময়ে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা আমাকে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অজুহাতে কাছে ডেকে অশ্লীল কথাবার্তা বলতেন ও শরীরের স্পর্শকাতরস্থানে হাত দিতেন । বিশেষ করে মাঝেমধ্যেই স্কুল ছুটির পর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যখন স্কুল থেকে বাড়ি চলে যায় তখন আমিও বাড়ি যেতে লাগলে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের দিয়ে আমাকে তার অফিস কক্ষে ডাকতেন। এমনকি শিক্ষিকা সাথীকে দিয়েও ডাকানো হত।
এমন অবস্থা চলার কারণে আমি বিষয়টি আমার বাড়িতে গিয়ে মাকে জানায়। ইতিমধ্যে হঠাৎ করে আমার খালুর অসুস্থতা জনিত কারণে আমি আমার মায়ের মাধ্যমে দুদিনের ছুটি নিয়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকি। ছুটি শেষে আমি ক্লাসে গেলে সেলিম রেজা স্যার আমাকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় তখন তার চেহারায় ও ব্যবহারে অশালীন আচরণ ফুটে ওঠে। আমাকে টেবিলের উপর হাত রেখে শিক্ষক সাথী চেপে ধরে রাখে আর সেলিম রেজা স্যার জিআই পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে মারপিট করে জখম করেন। আমি চিৎকার দিতে থাকলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,আমি তোর এমন জায়গায় মারদিবো যাতে তুই কাউকে দেখাতে না পারিশ। এর আগে মিমকে মেরে তিন লাখ টাকা দিয়েছি,তোকে মেরে প্রয়োজনে বারো লাখ টাকা দিব।
এ পরিস্থিতিতে আমি আহত হয়ে ন্যাংড়াতে ন্যাংড়াতে বাড়িতে গিয়ে মাকে বিষয়টি জানালে আমার মা সেলিম রেজাস্যারে কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাওয়ার সাথে সাথে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সামনে আমার মাকেও জিআই পাইপ ও লিচুর ডাল দিয়ে মারতে উদ্যত হলে শিক্ষকরা ঠেকিয়ে দেন। তারা আরও বলেন, ধস্তাধস্তির সময় সেলিম রেজা আমার গলার চেইন ও নাকফুল ছিনিয়ে নেয়। তখন আমি মেয়ের বই নিয়ে ফিরে আসার পথেও সে আমাকে ধাওয়া দেয়।
তারপর সেলিম রেজা নিজেরাই নাটক সাজিয়ে শিক্ষিকা ঝর্ণা আক্তার সাথীকে অসুস্থ্য সাজিয়ে ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয় এবং সাথীকে হাসপাতালে ভতির্ দেখিয়ে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশ দিয়ে হয়রাণী করছে। শুধু তাইনা,সেলিম রেজার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী মিমসহ কয়েকজনের সাথে একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর রেকর্ড আছে এলাকায়। তিনি হুমকি ধামকি দিয়ে বলেন,বেশী বাড়াবাড়ি করলে বিপদ হবে। পুলিশের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হবেনা। পুলিশ প্রশাসন আমার পকেটে থাক্।ে এর আগেও তিনি স্কুলের শিক্ষার্থী মেহেদী পিতা সানা মন্ডলকে মেরে যখম করে সত্তর হাজার টাকা জরিমানা দেন। ছাত্রী মিমকে পিটিয়ে অন্ধ করে একটি চোখ নষ্ট করে দেওয়ায় সে এখনও অন্ধ অবস্থায় আছে । এঘটনায়ও গ্রাম্য সালিশে সে তিন লাখ টাকা জরিমানা দেন। এখানেই শেষ না, সে আলহাজ্ব মোড়ে একটি শাখা স্কুল করে মোহাম্মদ জোয়ার্দারের নাতি রওজাকে মারটি করে আহত করায় জোয়ার্দাররা স্কুল ভেঙ্গে তুলে দিয়েছে। সেলিম রেজা একজন আওয়ামীলীগ পরিবারের সদস্য,সে আওয়ামীলীগের দোসর। তার স্কুলে গরু ছাগল ও মুরগী পালন করে এবং নারী নিয়ে ফুর্তির অভিযোগও এলাকায় শোনা যায়।
বক্তারা সকল ঘটনা শতভাগ সঠিকদাবি ও সাংবাদিকদের অনুরোধ করে আরও বলেন,ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি সাংবাদিকরা যেন তাদের সকল প্রকার টেলিভিশন পত্রিকা ও অনলাইন পত্রিকায় সংবাদটি প্রচারের মাধ্যমে একজন দুঃশ্চরিত্রবান নামধারী শিক্ষকের অসংখ্য অপরাধের চিত্র বসবতুনিষ্ঠভাবে সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সকল প্রশাসন,ঈশ্বরদীবাসীসহ দেশবাসীর সামনে পরিস্কার করে দেন যাতে ভবিষ্যতে জান্নাতুল ,মিম,রওজা,মেহেদীর মত আর কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে না হয়। এসব বিষয়ে তারা ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলেও জানান। এসময় তার আত্নীয় স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে সাংবাদিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্য সঠিক না বলে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা দাবি করেছেন। ঈশ্বরদী থানা সুত্র অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।