এবারের আসরে মেসি কেবল গোলই করছেন না, বিশ্বরেকর্ড নিজের সম্পত্তি বানিয়ে নিচ্ছেন। বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ ৭ ম্যাচে গোল করার একক বিশ্বরেকর্ড এখন লিওনেল মেসির দখলে। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের কিংবদন্তি জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেইরজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে চূড়ায় ছিলেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকা এলএমটেন আলজেরিয়ার বিপক্ষে চোখ ধাঁধানো হ্যাটট্রিক, অস্ট্রিয়া ম্যাচে জোড়া গোল এবং জর্ডানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে একটি গোল করেছেন।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম দুই ম্যাচে হওয়া ৫টি গোলের প্রতিটিই এসেছে মেসির জাদুকরী পা থেকে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এসে এই মহাতারকা সতীর্থদের বেশি সময় খেলার সুযোগ করে দিতে নিজে কিছুটা বিশ্রামে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে ৬০ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। তাঁর নামার আগেই জিওভান্নি লো সেলসো ও লাউতারো মার্টিনেজ আর্জেন্টিনার হয়ে একটি করে গোল করেন। তবে মেসি মাঠে নেমেই চিরচেনা রূপে হাজির হন এবং দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে দলের পক্ষে শেষ গোলটি করে আবারও স্কোরশিটে নিজের নাম তোলেন।
আর্জেন্টিনাকে বাদ দিলে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া মাত্র ১৭টি দল পুরো গ্রুপ পর্বে মেসির চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে। বিপরীতে, মেসির চেয়ে কম গোল করা ৩০টি দলের তালিকায় রয়েছে শিরোপার অন্যতম দাবিদার স্পেন এবং পর্তুগালকে পেছনে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া শক্তিশালী কলম্বিয়াও। ওই তালিকায় থাকা পাঁচটি দেশ (স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, মিসর, আলজেরিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা) গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচ খেলে যৌথভাবে সমান ৫টি করে গোল করতে পেরেছে। এ ছাড়া চার দেশ ৪টি, চার দেশ ৩টি, ১২টি দেশ ২টি এবং চারটি দেশ মাত্র একটি করে গোল করতে পেরেছে। আর গোলই করতে পারেনি একমাত্র হতভাগ্য দেশ পানামা।
বিপরীতে, বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের ৩ ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ ১০টি করে গোল করে দলীয় আক্রমণে শীর্ষে রয়েছে তিন পরাশক্তি– জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডস। এ ছাড়া কানাডা ৯টি, আর্জেন্টিনা-যুক্তরাষ্ট্র-নরওয়ে-সেনেগাল সমান ৮টি এবং ব্রাজিল-জাপান-সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড ৭টি করে গোল করেছে। এ ছাড়া যৌথভাবে ৬টি করে গোল করার তালিকায় আছে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, মেক্সিকো, মরক্কো, অস্ট্রিয়া ও বেলজিয়াম। তবে দলগুলোর এমন বড় স্কোরের মাঝেও লিওনেল মেসির একক ৬ গোলের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে।