মামলার লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় গ্রামীণ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার বিনাই গ্রামের বাসিন্দা ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ তাঁর ছোট সন্তানকে নিয়ে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত যখন গভীর হয়, তখন একই গ্রামের বাসিন্দা গোফফার মণ্ডলের বখাটে ছেলে রুবেল হোসেন (২৭) অত্যন্ত কৌশলে ওই বাড়ির সীমানা প্রাচীর টপকে ঘরের ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকেই তিনি ঘুমন্ত গৃহবধূকে বিছানা থেকে জোরপূর্বক তুলে ঘরের বাইরে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর বক্তব্য অনুযায়ী, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে অভিযুক্ত লম্পট রুবেল তাকে ফিসফিস করে জানান যে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি দোকানে আড্ডা দেওয়ার ছলে তার স্বামীকে কোমল পানীয়ের সাথে কড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তার স্বামী কোনোভাবেই জেগে উঠবে না। এই কথা বলে রুবেল তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। এতে ওই গৃহবধূ তীব্র বাধা দিলে রুবেল তার মুখ চেপে ধরেন এবং চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে একপর্যায়ে ঘরের ভেতর মায়ের পাশে থাকা ছোট শিশুটি হঠাৎ জেগে উঠে জোরে কান্নাকাটি শুরু করে। সন্তানের কান্নার শব্দে ঘুমের ওষুধের ঘোর কেটে গিয়ে স্বামীর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি তাৎক্ষণিক শয্যা থেকে উঠে চিৎকার করে স্ত্রীর কাছে জানতে চান যে গভীর রাতে বাড়িতে কে এসেছে? স্বামীর আকস্মিক চিৎকার ও সজাগ হওয়ার শব্দ শুনেই অভিযুক্ত রুবেল হোসেন অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত ঘরের দরজা খুলে পুনরায় প্রাচীর টপকে অন্ধকারের মধ্যে পালিয়ে যান।
পরদিন শুক্রবার সকালে এই লজ্জাজনক বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্যসালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অপরাধী রুবেল সেখানে উপস্থিত হননি। এই বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা গ্রাম্যসালিশের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনার ভিত্তিতে সামাজিক মীমাংসার চেষ্টা করেছিলাম। তবে অভিযুক্ত রুবেল টানা দুই দিন সালিশের বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে পলাতক রয়েছেন।’
ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, ‘আমাকে গভীর রাতে একা পেয়ে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি সমাজের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ স্ত্রীর সুর মিলিয়ে স্বামীও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গভীর রাতে ঘরে ঢুকে আমার স্ত্রীর সর্বনাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এর কঠোর শাস্তি চাই।’ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রুবেল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার কারণে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘আমি জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে একটি বিশেষ সভায় অংশ নিতে এসেছিলাম। তবে থানা মারফত জেনেছি যে ভুক্তভোগীর স্বামী থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে; অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’