মোহাম্মদ বাকী অনীক, কুমিল্লা প্রতিনিধি:
জ্যৈষ্ঠ পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের স্নান উৎসব (দেবস্নান পূর্ণিমা) গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) কুমিল্লা জগন্নাথপুরস্থ শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
ভোর থেকেই মন্দিরে ভক্তদের সমাগমে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, শ্রীজগন্নাথ দেব, শ্রীবলভদ্র ও দেবী সুভদ্রাকে গর্ভগৃহ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় স্নানবেদীতে আনা হয়। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ১০৮টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে দেববিগ্রহের মহাস্নান সম্পন্ন করা হয়। এ সময় “জয় জগন্নাথ” ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।
মহাস্নান শেষে দেববিগ্রহকে ঐতিহ্যবাহী ‘গজবেশে’ বা হাতি বেশে সজ্জিত করা হয়, যা ভক্তদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। হাজারো দর্শনার্থী দেববিগ্রহের এই বিরল রূপ একনজর দেখার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন।
সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মহাস্নানের পর জগন্নাথ দেব, বলভদ্র ও সুভদ্রা জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর শুরু হয় ১৫ দিনের ‘অনসর’ পর্ব, যেখানে দেববিগ্রহ জনসম্মুখে থাকেন না। অনসর শেষে অনুষ্ঠিত হবে ‘নবযৌবন দর্শন’ এবং এরপরই শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা।
উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ পূজা, নামসংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। ভক্তদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ধর্মীয় নেতারা বলেন, এই উৎসব কেবল একটি আচার নয়, বরং এটি বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে। এখন ভক্তরা অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন আসন্ন রথযাত্রার জন্য।