সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 41
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের দুটি অংশ যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এরপর ৮ জুন চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকায় প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধসে পড়ে। সর্বশেষ গত ২০ জুন সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। বর্তমানে সদর উপজেলার বড় কয়ড়া, বর্ণি ও কৈগাড়ি জড়তা গ্রাম, রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা, চৌহালী উপজেলার চর বিনানই এবং কাজীপুর উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস ছালাম অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর চর দ্রুত বিলীন হয়ে গেছে। আগে তিনি ওই চরে আখ, গম, কালাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতেন। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া জানান, বড় কয়ড়া, বর্ণি ও কৈগাড়ি জড়তা এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি চরম ঝুঁকিতে থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম আপাতত স্থানীয় দুর্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ইতোমধ্যে তাদের বসতঘর সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অনেকে এলাকা ত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে আবাদি জমি হারিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ৪ লাখ টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের বিকল্প স্থানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ভবনটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুরের মেঘাইঘাট পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এখনো উভয় পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, যেসব এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিয়েছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত তীররক্ষা স্থাপনাগুলো দ্রুত সংস্কারের কাজও চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যমুনা নদীর ভয়ংকর ভাঙন থেকে জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী দিনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।