সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 57
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টির জন্য ২০০৬ সালে একটি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র-কাম-বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়। ওই ভবনে তিনটি পূর্ণাঙ্গ শ্রেণিকক্ষ ও একটি ছোট কক্ষ রয়েছে। পরবর্তীতে একটি ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন কোনো শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়নি। বর্তমানে ১২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন (একজন প্রেষণে থাকায়)। তিনটি শ্রেণিকক্ষে পাঁচ শ্রেণির পাঠদান চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে শিক্ষকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে অফিস কক্ষের একপাশে বেঞ্চ বসিয়ে হোয়াইট বোর্ড লাগিয়ে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদান একইসাথে চলায় শিক্ষার্থীরা মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বারান্দায় মাদুর পেতে ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বকর মিয়া জানান, নতুন একটি ভবনের জন্য শিক্ষা বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষক হামিদা খাতুন বলেন, "অফিস কক্ষে পাঠদান করা অত্যন্ত কঠিন। প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও কথাবার্তার কারণে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।"
শিক্ষার্থী রিফাত, সুমাইয়া ও জাকির হোসেন জানায়, বারান্দায় বসে খাতায় লিখতে তাদের অনেক সমস্যা হয় এবং অফিস কক্ষের গোলমালের কারণে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "বিদ্যালয়টির জন্য নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।"
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প নিলেও এই বিদ্যালয়ের দুর্দশা দীর্ঘদিনের। দ্রুত নতুন শ্রেণি ভবন নির্মাণ করা না হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।