২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচেই প্যারাগুয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত ও বিস্ময়কর হারের পর জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান অত্যন্ত হতাশার সাথে স্বীকার করেছেন যে, তার দলকে আর বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সারির দলগুলোর তালিকায় রাখা যায় না। বোস্টনের মাঠে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর পেনাল্টি শুটআউটের স্নায়ুযুদ্ধে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। ২০১৮ এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায়ের পর, এবার প্রথম নকআউট ম্যাচেই ছিটকে গেল তারা। জার্মান ফুটবলের এই দুঃস্বপ্নের ধারা যেন কোনোভাবেই থামছে না।
ম্যাচ শেষে বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান বলেন, "প্যারাগুয়ের মতো দলের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে এভাবে বিদায় নেওয়ার স্বাদটা সত্যিই অনেক তেঁতো এবং অনেক কষ্টের। এটি বিশ্বকাপে আমাদের টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যর্থতা ও বিদায়। বাস্তবতার নিরিখে বলতে গেলে, আমরা এখন আর শীর্ষ সারির দলের মধ্যে নেই।" পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানি প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল। কিন্তু প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে তারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। ম্যাচে হুলিও এনসিসোর করা দুর্দান্ত গোলের জবাব দিয়ে কাই হাভার্টজ জার্মানিকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন। তবে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শুটআউটে হেরে মাঠ ছাড়তে হয় জার্মানদের।
জার্মানির এই ঐতিহাসিক পতন নিয়ে দেশটির সাবেক তারকা মিডফিল্ডার থমাস হিটজলস্পার্গার মনে করেন, এই সমস্যা শুধু একটি টুর্নামেন্টে আটকে নেই, এর শিকড় আরও গভীরে। তার মতে, অতীতে যে আগ্রাসী গুণ জার্মান ফুটবলকে বিশ্বের বুকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর করে তুলত, সেটিই তারা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। হিটজলস্পার্গার বিবিসি স্পোর্টসকে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে নতুন খেলোয়াড় গড়ে তোলার পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল কেবল পাসিং, খেলার ধরণ আর কৌশলগত আধুনিক উদ্ভাবন নিয়ে। কিন্তু একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ জিনিসে হয়তো আমরা একদমই মনোযোগ দিইনি, আর সেটা হলো আক্রমণের ধার।" তিনি আরও যোগ করেন, "এর মানে এই নয় যে আমরা শুধু লম্বা বল খেলব, হেডার জিতব আর কুৎসিতভাবে ম্যাচ জিতব। তবে একই সঙ্গে আমরা সেই ‘ভীতি জাগানিয়া’ রূপটাও হারিয়ে ফেলেছি, যা একসময় প্রতিপক্ষ দলগুলোকে মাঠের ভেতর কাঁপিয়ে দিত। এখন অন্য দলগুলো আমাদের সম্মান ঠিকই করে, কিন্তু কেউ আর ভয় পায় না। আমাদের হারানো এখন আর মোটেও কঠিন কিছু নয়। তাছাড়া আমাদের সেই চেনা শারীরিক ফুটবল বা শারীরিক উপস্থিতিও আর নেই, যা একসময় আমাদের প্রধান শক্তি ছিল।"