বিশেষ প্রতিবেদক, আব্দুল কাইয়ুম খান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুলাই ২০২৬-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। রাষ্ট্রের এই বিশাল ও ব্যাপক প্রশাসনিক অবয়বকে সম্পূর্ণ সচল, গতিশীল, স্বচ্ছ, জনবান্ধব এবং দুর্নীতিমুক্ত রাখার সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে দেশের প্রধান রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, যুগের পর যুগ ধরে এই বিশাল সরকারি জনবলের বিপরীতে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, লজিস্টিক সাপোর্ট ও জনবল কাঠামোকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে এসে এক বড় প্রশাসনিক সংকট তৈরি করেছে।
দুদকের বর্তমান অনুমোদিত মোট জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই সংস্থায় মাত্র ২ হাজার ১৪৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। প্রশাসনিক বাস্তবতার নিরিখে এই সংখ্যাটি শুধু অপ্রতুলই নয়, বরং চরমভাবে অবাস্তব। বর্তমান কাঠামোর সহজ গাণিতিক সমীকরণ ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। দেশের প্রতি ১ হাজার জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড, ফাইলের গতিবিধি, আর্থিক লেনদেন এবং অর্জিত সম্পদের হিসাব তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য দুদকের পক্ষ থেকে মাত্র ১ জন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন।
অসম কাঠামোর সুযোগে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির বিস্তার
দেশের প্রথম সারির সুশাসন বিষয়ক গবেষক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের এই বিশালাকার অবয়বকে মাত্র দুই হাজার জনবল দিয়ে কার্যকরভাবে নজরদারি বা জবাবদিহিতার আওতায় আনা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দৈনন্দিন প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম ও অর্জিত সম্পদের বিবরণী নিয়মিত তদারকির জন্য দুদকের বর্তমান জনবল বাড়িয়ে কমপক্ষে ২০ হাজার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলে উন্নীত করা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই চরম ও বৈষম্যমূলক জনবল সংকটের প্রত্যক্ষ সুযোগ নিয়ে দেশের প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরেই জেঁকে বসেছে গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম। ফলে দেশের সাধারণ নাগরিকরা প্রতিনিয়ত যে কোনো মৌলিক রাষ্ট্রীয় সেবা নিতে গিয়ে নানাবিধ হয়রানি, আর্থিক শোষণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিই এখন দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং সামাজিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই জাতীয় ক্রান্তিলগ্নে একটি সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবং ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) আমূল সংস্কার ও শক্তিশালী করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট, বাস্তবমুখী, জোরালো এবং যুগোপযোগী প্রস্তাবনা ও কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গবেষক ও বিশিষ্ট নাগরিক আব্দুল কাইয়ুম খান।
সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত ও অভিযোগযুক্ত ১১টি ‘রেড জোন’ প্রতিষ্ঠান
প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করা লিখিত প্রস্তাবনায় দেশের সবচেয়ে বেশি নাগরিক ভোগান্তি, ঘুষের লেনদেন এবং আর্থিক অনিয়মের প্রধান আখড়া হিসেবে পরিচিত ১১টি সুনির্দিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. ভূমি মন্ত্রণালয় ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস: যেখানে সাধারণ মানুষকে নিজের জমির নামজারি, খতিয়ান বা পর্চা তোলা এবং দলিল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম হয়রানি ও বাধ্যতামূলক ঘুষের শিকার হতে হয়।
২. বাংলাদেশ পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর: যেখানে দালাল চক্রের প্রকাশ্য দৌরাত্ম্য, ফাইল আটকে রাখা এবং ই-পাসপোর্ট সেবা প্রাপ্তিতে নানামুখী জালিয়াতি ও অনিয়ম এখন ওপেন সিক্রেট।
৩. বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ): মোটরযানের নিবন্ধন, ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করার প্রতিটি ধাপে যেখানে ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
৪. সামগ্রিক বিচার ব্যবস্থা: বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরে নথি গায়েব, দিন নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক কর্মচারীদের একাংশের অসাধু তৎপরতার কারণে দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে।
৫. রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক): মেগাসিটি ঢাকার ভবন নির্মাণ অনুমোদন, নকশা পাস ও প্লট বরাদ্দ ঘিরে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য এবং নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
৬. বাংলাদেশ পুলিশ: মাঠ পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
৭. গণপূর্ত অধিদপ্তর: সরকারি বড় বড় মেগা অবকাঠামো নির্মাণ, প্রাক্কলন বা এস্টিমেট জালিয়াতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং ঠিকাদারি টেন্ডার বাণিজ্যের অন্যতম আখড়া হিসেবে এটি চিহ্নিত।
৮. বিচার বিভাগ ও নিম্ন আদালতসমূহ: যেখানে মামলার দীর্ঘ জট, শুনানির তারিখ নিয়ে কারসাজি এবং নকল ও ওকালতনামা প্রাপ্তিতে চরম প্রশাসনিক জটিলতা ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
৯. মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি): সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি, পদোন্নতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুদান এবং শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের বড় অভিযোগের কেন্দ্রস্থল এটি।
১০. স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরকারি হাসপাতালসমূহ: ওষুধ ও জীবনরক্ষাকারী ভারী চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনাকাটায় শত শত কোটি টাকার বড় বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট যেখানে নিয়মিত ঘটনা।
১১. বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়: বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, জ্বালানি আমদানি, মিটার রিডিং কারসাজি এবং বড় বড় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রয়ে অস্বচ্ছতা ও কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই খাতে।
দুদককে শক্তিশালী করার ৫ দফা সুনির্দিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা আব্দুল কাইয়ুম খানের এই বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক এবং অপরাধীদের জন্য এক অপ্রতিরোধ্য সংস্থায় রূপান্তর করতে ৫টি প্রধান স্তম্ভের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. সাংগঠনিক ও জনবল কাঠামো সংস্কার
জনবল ২০ হাজারে উন্নীতকরণ: ২২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুনির্দিষ্ট ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে নজরদারিতে আনতে দুদকের বর্তমান জনবল অবিলম্বে ২ হাজার ১৪৬ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজারে উন্নীত করতে হবে। অর্থাৎ মাঠ পর্যায়ে প্রতি ১০ জন সরকারি কর্মচারীর জন্য অন্তত ১ জন তদন্ত কর্মকর্তা (১:১০ অনুপাত) নিশ্চিত করা আবশ্যক। এই নতুন বিশাল জনবলের মধ্যে সাধারণ তদন্ত কর্মকর্তার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক দক্ষ আইন কর্মকর্তা, উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক মানের ফরেনসিক অডিটর এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি) বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যারা জটিল সাইবার ও আর্থিক অপরাধ ধরতে সক্ষম।
উপজেলা পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ: দুদকের কার্যক্রমকে শুধু রাজধানী, জেলা বা বিভাগীয় শহরে সীমাবদ্ধ না রেখে, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সরাসরি অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুততম সময়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুদকের একটি করে পূর্ণাঙ্গ, সুসজ্জিত এবং সম্পূর্ণ স্বাধীন শাখা অফিস স্থাপন করতে হবে। এর ফলে গ্রামীণ জনপদের মানুষ সহজেই স্থানীয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারবে।
২. বিচারিক ও আইনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট ও দ্রুত বিচার: দুর্নীতির মামলার বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা এবং বছরের পর বছর মামলা ঝুলে থাকার সংস্কৃতি দূর করতে প্রতিটি জেলায় একজন করে সার্বক্ষণিক ডেডিকেটেড জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। এই আদালতের জন্য কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিলের পরবর্তী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে অবশ্যই পুরো বিচারকার্য সম্পন্ন করে চূড়ান্ত রায় প্রদান করতে হবে।
অবৈধ সম্পদ দ্রুত বাজেয়াপ্তকরণ: প্রমাণিত দুর্নীতিবাজদের দেশ-বিদেশে থাকা সব ধরণের অবৈধ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, ব্যাংক ব্যালেন্স ও বাড়ি-গাড়ি দ্রুততম সময়ে চিহ্নিত করে তা ফ্রিজ করা, বাজেয়াপ্ত করা এবং তা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার আইনি প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজ, স্বচ্ছ, নিশ্ছিদ্র ও সময়সীমাবদ্ধ করতে হবে।
৩. প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি
আধুনিক লজিস্টিক ও গোয়েন্দা সরঞ্জাম: ২০ হাজার জনবলের এই বিশাল সংস্থাকে কার্যকর ও গতিশীল রাখতে দুদককে পর্যাপ্ত সংখ্যক আধুনিক ও দ্রুতগামী যানবাহন সরবরাহ করতে হবে। একই সাথে আধুনিক ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং রুখতে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডাটা অ্যানালাইসিস ইউনিট এবং উন্নত গোয়েন্দা ট্র্যাকিং সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।
কঠোর মানবসম্পদ নীতি ও বিশেষ বেতন স্কেল: দুদকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো প্রকার লোভ-লালসা ও মোহের ঊর্ধ্বে রাখতে তাদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিশেষ বেতন কাঠামো এবং শতভাগ সততার জন্য রাষ্ট্রীয় মেডেল ও আর্থিক পুরস্কার বা প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সাথে, কোনো দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি দুর্নীতির সামান্যতম প্রমাণ মেলে, তবে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে স্থায়ী বরখাস্ত ও কঠোর ফৌজদারি শাস্তির মুখোমুখি করার আইন কার্যকর করতে হবে।
৪. কৌশলগত ও অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা
রেড জোনে বিশেষ চিরুনি অভিযান: চিহ্নিত সর্বাধিক অভিযোগযুক্ত ১১টি সংস্থাকে অবিলম্বে "রেড জোন" বা অতি-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে প্রথম পর্যায়ে সেখানে দুদকের বিশেষ স্কোয়াড দ্বারা ঝটিকা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। প্রথম ধাপের এই আকস্মিক শুদ্ধি অভিযান সফল হওয়ার পর, দ্বিতীয় পর্যায়ে তা দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও পরিদপ্তরের ২২ লাখ কর্মচারীর আওতাভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানে ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারণ করা হবে।
৫. এক বছরের চ্যালেঞ্জ: ৬০-৭০ শতাংশ দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি
প্রস্তাবনার শেষে একটি সাহসী লক্ষ্য ও দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে গবেষক আব্দুল কাইয়ুম খান উল্লেখ করেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, উল্লেখিত এই যুগান্তকারী প্রস্তাবনাসমূহ যদি সরকার সদয়ভাবে বাস্তবায়ন করে এবং আমাকে মাত্র এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীন আইনি ক্ষমতা, পর্যাপ্ত জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সাংগঠনিক সহায়তা প্রদান করে—তবে একটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও কঠোর ব্লু-প্রিন্টের মাধ্যমে দেশ থেকে ন্যূনতম ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব, ইনশাআল্লাহ।"
উপস্থিত বিভিন্ন খাতের নাগরিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ লুটপাট বন্ধে এই জাতীয় মহাপরিকল্পনা দ্রুত মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের স্বার্থে দুর্নীতি দমন কমিশনকে এই মডেলে শক্তিশালী করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অতি দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করবেন বলে সর্বস্তরের মানুষ আশা প্রকাশ করছেন।