নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে আনোয়ারের মরদেহ তার নিজ গ্রামে আনা হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। গত বুধবার (২৪ জুন) সদর উপজেলার গোবরা মালোপাড়া এলাকায় আনোয়ারকে চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় গত সোমবার (২৯ জুন) নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন।
এজাহারে অভিযুক্তরা হলেন গোবরা মালোপাড়া এলাকার প্রসেনজিৎ বিশ্বাস, সৌরভ বিশ্বাস, অপূর্ব বিশ্বাস, আকাশ বিশ্বাস ও হৃদয় বিশ্বাস। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুন সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আনোয়ার আর ফেরেননি। পরদিন সকালে প্রতিবেশী বাচ্চু মিয়ার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আনোয়ার নড়াইল জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্তরা আনোয়ারকে চোর অপবাদ দিয়ে প্রসেনজিতের বাড়ির সামনে একটি গাছে বেঁধে সারারাত বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে প্রসেনজিৎ গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং অন্যরা লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরদিন ২৫ জুন স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের মাধ্যমে খবর পেয়ে নড়াইল সদর থানার একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
নিহতের বড় ভাই মো. নবীর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, “আমার ভাই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় প্রায়ই বাড়ি থেকে বের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত। সেই সুযোগে তাকে চোর অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ওসি অজয় কুমার কুন্ডু জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর