ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

তাড়াশে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির তদন্ত: ৪০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৫:১৭ পিএম

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী তদন্তে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ মোট ৪০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি। এখন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহানের নির্দেশনায় গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গত মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেকের লিখিত বক্তব্যও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা বলেন, "আমরা অত্যন্ত সতর্কতা ও গোপনীয়তা বজায় রেখে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। শিক্ষার্থীদের মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে বিস্তারিত কিছু বলা সমীচীন হবে না। তবে সকল পক্ষের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।"

উপজেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের এই কমিটিতে রয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা (আহ্বায়ক), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুম মনিরা জুঁই, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা নাসরিন, তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য জিল্লুর রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

গত ২২ জুন বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হলে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তাড়াশ থানা এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিশেষ নারী তদন্ত টিমের সমন্বয়ে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও গণশুনানির আয়োজন করা হয়। ২৩ জুন অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করে আসছিলেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করতে গেলে অনেককে ভয়ভীতি ও নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ ও অনিরাপত্তার মধ্যে ছিলেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা শুধু নিরাপদ পরিবেশে লেখাপড়া করতে চাই। অভিযোগ করার পর আমাদের চুপ থাকতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনুক।" অভিভাবক তপন কুমার রজক বলেন, "শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হওয়ার কথা। যদি কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণে জড়িত থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।"

অভিযুক্ত শিক্ষকদের একজন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।"

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুসরাত জাহান বলেন, "যৌন নিপীড়নের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আমরা নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব রেখে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" জেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অগ্রাধিকার। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপও বিবেচনা করা হবে।" উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিষমডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় পরবর্তীতে ২০১২ সালে স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত হয়। এই সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর