সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 69
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলোচিত পলাশ প্রামাণিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হৃদয় শেখ (২০) এবং কালিয়া হরিপুর গ্রামের দেলবার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৩১)। নিহত পলাশ প্রামাণিক (২৫) কামারখন্দ উপজেলার বড়পাকুরিয়া গ্রামের পাশান প্রামাণিকের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ জানান, গত ১২ জুন রাতে ধার করা টাকা নিয়ে কালিয়া হরিপুর গ্রামে জুয়েল শেখের বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক বসেছিল। ওই বৈঠকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জুয়েল ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ জুন ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা পাশান প্রামাণিক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসআই মো. সোহাগ আরও জানান, ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে র্যাবের সহায়তায় ২৯ জুন ঢাকা থেকে মনজেলা খাতুনকে এবং ৩০ জুন জয়পুরহাট থেকে মামলার প্রধান দুই আসামি হৃদয় ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১ জুলাই হৃদয় ও জুয়েলকে আদালতে হাজির করা হলে তারা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। গ্রেপ্তার হওয়া ছয় আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।