হ্যারি কেন এবং কেটি গুডল্যান্ডের প্রথমবার দেখা হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের লার্কসউড প্রাইমারি স্কুলে। তখন কেনের বয়স ছিল মাত্র ১২ এবং কেটির ১১। ২০০৫ সালে ফুটবল কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম যখন তাদের চিংফোর্ড ফাউন্ডেশন স্কুলে এসেছিলেন, তখন এই খুদে জুটির সঙ্গে তিনি একটি ছবিও তোলেন। স্কুলের দিনগুলিতেই তাদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয় এবং ২০১২ সালে হাই স্কুল শেষ করার পর তারা ডেটিং শুরু করেন।
সেলিব্রেটি লাইফস্টাইলের চাপে অনেক সম্পর্ক ভেঙে গেলেও হ্যারি কেন নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি ভাগ্যবান যে, আমি আমার ছোটবেলার ভালোবাসাকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছি, যে আমার পুরো ক্যারিয়ার খুব কাছ থেকে দেখেছে।” তারকা হওয়ার পর কে ভালোবাসার জন্য কাছে আসছে আর কে টাকার জন্য, তা বোঝা কঠিন—এমন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে কেন জানান, শৈশবের এই বন্ধুত্বের ওপর তার অগাধ আস্থা রয়েছে।
কেটি গুডল্যান্ড ১৯৯৩ সালের ২১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৪ সালে স্পোর্টস সায়েন্সে ডিগ্রি নেওয়া কেটি বর্তমানে একজন পেশাদার ফিটনেস কোচ ও ট্রেনার। ২০১৭ সালে বাহামাসে বাগদান সম্পন্ন হওয়ার পর ২০১৯ সালের গ্রীষ্মে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় কেন কেটিকে তার ‘সেরা বন্ধু’ ও ‘সোলমেট’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বর্তমানে এই দম্পতি চার সন্তানের গর্বিত পিতামাতা। তাদের সন্তানদের নাম আইভি জেন, ভিভিয়েন জেন, লুই হ্যারি এবং হেনরি এডওয়ার্ড। ক্যারিয়ারের সাফল্য ও বিশ্বজোড়া খ্যাতির মাঝেও পরিবারের প্রতি কেনের অটুট সমর্থন ও ভালোবাসা তাকে সবসময় মাটির কাছাকাছি রাখে। লার্কসউড প্রাইমারির ছোটবেলার বন্ধু থেকে শুরু করে আজকের বিশ্বসেরা তারকা হয়ে ওঠার পথে কেটি গুডল্যান্ডই তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাফল্যের জন্য লড়ছেন কেন, আর মাঠের বাইরে তার জীবনের সবচেয়ে বড় জয় হিসেবে টিকে আছে কেটির সঙ্গে এই অটুট ভালোবাসা।