কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / : 30
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি মালবাহী ট্রাক এবং যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে তীব্র মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এরশাদ আলী (৪০) নামের এক অটোরিকশা আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। একই সাথে অটোরিকশার চালকসহ আরও অন্তত চারজন যাত্রী অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনকভাবে আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা আঞ্চলিক মহাসড়কের শিমুলতলা নামক স্থানে এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত এরশাদ আলী রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বলিয়াপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তিস্তার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা একটি গ্যাসবাহী ড্রাম ট্রাকের সাথে অটোরিকশাটির সরাসরি মুখোমুখি তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের প্রচণ্ড ধাক্কায় যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এতে অটোরিকশার ভেতরে থাকা আরোহীরা গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে এরশাদ আলীর মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন—মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, শফিউর রহমান এবং সিএনজি অটোরিকশার চালক দুলু মিয়া। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটলে উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই রাজারহাট থানা পুলিশের একটি ক্ষিপ্র টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনাকবলিত ঘাতক ট্রাক এবং দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া সিএনজি অটোরিকশা দুটিকে ইতিমধ্যেই পুলিশ হেফাজতে জব্দ করা হয়েছে। এই সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।