সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 25
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলোচিত পলাশ প্রামাণিক (২৫) হত্যা মামলার জট খুলতে শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া দুই প্রধান আসামি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দুই নারীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বর্তমানে তারা সকলেই কারাগারে রয়েছেন।
জবানবন্দি দেওয়া দুই প্রধান আসামি হলেন—সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হৃদয় শেখ (২০) এবং কালিয়া হরিপুর গ্রামের দেলবার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৩১)। নিহত পলাশ প্রামাণিক পার্শ্ববর্তী কামারখন্দ উপজেলার বড়পাকুড়িয়া গ্রামের পাষাণ প্রামাণিকের ছেলে।
মামলার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ জানান, "গত ১২ জুন রাতে পাওনা টাকা লেনদেনের জের ধরে কালিয়া হরিপুর গ্রামে জুয়েল শেখের বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক বসে। আলোচনার এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে জুয়েল ও হৃদয় ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।"
গুরুতর আহত অবস্থায় পলাশকে উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১৩ জুন ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের বাবা পাষাণ প্রামাণিক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসআই মো. সোহাগ আরও জানান, ঘটনার রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং র্যাবের যৌথ অভিযানে পলাতক আসামিদের শনাক্ত করা হয়। গত ২৯ জুন ঢাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মনজেলা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৩০ জুন জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা প্রধান দুই আসামি হৃদয় ও জুয়েলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গত ১ জুলাই হৃদয় ও জুয়েলকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকারের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালত জবানবন্দি রেকর্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার বাকি এক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকাশজমিন / আরআর