বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অমানবিক পরিবেশে সার্কাস পরিচালনায় ব্যবহৃত হাতি ‘বাদশা বাহাদুর’ অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় অসুস্থ ও জরাজীর্ণ এই হাতিটিকে উন্নত চিকিৎসা, পরিচর্যা ও নিরাপদ জীবনের জন্য একটি আধুনিক সাফারি পার্কে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মহাস্থান বন্দর এলাকায় শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হাতিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাস্থান ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘বাদশা বাহাদুর’ নামের এই হাতিটি দিয়ে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সার্কাস চালানো হচ্ছিল। তবে পর্যাপ্ত খাবার, উপযুক্ত বাসস্থান ও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে হাতিটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। একটি বন্যপ্রাণীর প্রতি এমন অমানবিক আচরণের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দ্রুত তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হয়।
হাতিটির শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বন বিভাগের মাধ্যমে বাদশা বাহাদুরকে অবিলম্বে একটি প্রাকৃতিক সাফারি পার্কে স্থানান্তরের জরুরি নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের উদ্যোগে স্থানীয় প্রশাসন হাতিটির মালিকের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক আহ্বানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং হাতিটির উন্নত চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে এর মালিক স্বেচ্ছায় বাদশা বাহাদুরকে কোনো রকম আপত্তি ছাড়াই বন বিভাগের জিম্মায় দিতে সম্মতি প্রকাশ করেন।
হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হাতিটির মালিক এটি স্বেচ্ছায় আমাদের জিম্মায় সোপর্দ করেছেন। তাঁরই প্রেক্ষিতে আজ সন্ধ্যায় আমরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হাতিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। সাফারি পার্কের উন্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাদশা বাহাদুর খুব দ্রুতই তার স্বাভাবিক সুস্থতা ও নিরাপদ জীবন ফিরে পাবে বলে আমরা আশাবাদী।"