কক্সবাজারে অতিভারী বর্ষণের জেরে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাত থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত জেলার পৃথক স্থানে পাহাড়ি ঢল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পেই মারা গেছেন ৮ জন এবং কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। নিমিষেই মাটির স্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি।
সবশেষ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। আকস্মিকভাবে পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৫০) বসতঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে আলী আকবরসহ তাঁর পরিবারের তিন সদস্য মাটির নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহত বাকি দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি ঘটে। রাত ৩টার দিকে ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে দুই বোন ও দুই শিশুসহ চারজন প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন— উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এর কিছু আগে রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাটির নিচে চাপা পড়ে একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর মাত্র আধা ঘণ্টা আগে ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়েন একই পরিবারের তিনজন। সেখান থেকে রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাঁদের ৪ বছরের সন্তান মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই ভারী বর্ষণ আরও অন্তত দুইদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের জীবন রক্ষার্থে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, পাহাড়ধসের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।