লালমনিরহাট প্রতিনিধি / : 22
লালমনিরহাটঃপ্রতিনিধি।।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় আলোচিত নন্দিনী হত্যাকান্ডে প্রশাসনের গাড়ি ভাংচুর মামলায় অজ্ঞাত হিসেবে নিরাপরাধ ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার(৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চন্দনপাট কাজিরচওড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ দায়ের করেন গ্রেপ্তার আজিজুল হকের বাবা খলিলুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, গত ১৭ জুন আমার বাড়িতে নাতির বিয়ের অনুষ্ঠানে অতিথিদের অ্যাপায়ন চলছিল। বিয়ে নিয়ে দুই দিন আমার পরিবারের সকল সদস্য ব্যস্থ ছিলেন। সেই দিন আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দুরে ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে নন্দিনী রায়(৭) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি লাশ ভুট্টা ক্ষেতের গর্ত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বিক্ষুব্ধজনতা গ্রেপ্তার খুনিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে হামলা ভাংচুর চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ ও সরকারী কর্মচারী বাদি হয়ে অজ্ঞাত প্রায় দেড় হাজার মানুষের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে এ মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার শুরু করে পুলিশ। সেই গ্রেপ্তারের অংশ হিসেবে গত বুধবার রাতে আমার বাড়ি ঘেরাও করে আমার ঘুমন্ত ছেলে আজিজুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আমরা তার সম্পৃক্তের প্রমান চাইলে পুলিশ অফিসার একটি ভিডিও'র স্ক্রিনসট আমাদের দেয়া হয়। যেখানে তার মত দেখতে প্যান্ট পড়া এজনকে দেখা যায়। আমরা প্রতিবাদ করি, আমার ছেলে আজিজুল হক কৃষক সে প্যান্ট পড়েন না। সে সর্বদায় লুঙ্গি পড়ে। ভাল করে তদন্তের দাবি জানালেও পুলিশ কর্ণপাত না করে ওই দুই মামলায় আমার ছেলেকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেন, পুলিশ অফিসার যে ভিডিও'র স্ক্রিনসট দিয়েছেন। সেই ভিডিও নন্দনীর হত্যার এলাকা বা সেই দিনের নয়। ওই ভিডিওটি হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় বিএনপি আওয়ামীলীগের হামলার একটি ভিডিও। সেই ভিডিওকে ফলিমারীর বলে চালিয়ে দিয়ে আমার নিরাপরাধ ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমার ছেলে অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি যেমন চাই। অনুরুপ নিরাপরাধ ছেলেকে জেলে রাখা আমাদের কাম্য নয়। সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধিদের গ্রেপ্তার ও নিরাপরাধ ছেলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন খলিলুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে আজিজুলের চাচা রাশেদ মিয়া ও ভাই জয়নাল আবেদীনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন, আমরা একা নই সিনিয়র অফিসাররাও এসব ভিডিও দেখে নিশ্চিত হওয়ার পরে আসামী চিহ্ণিত ও গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপরাধ কোন ব্যাক্তিকে শাস্তি দেয়া আমাদের কাজ নয়। গ্রেপ্তার আজিজুল হক ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন তা নিশ্চিত হয়ে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি।