হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জাকিরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে এক প্রধান শিক্ষকের উগ্র ও বিতর্কিত মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের মুখে এমন শব্দ প্রয়োগের ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, সোমবার (৬ জুলাই) ‘ফোকাস নিউজ’ নামের একটি স্থানীয় ফেসবুক পেজে ধর্মঘর ইউনিয়নের আহম্মেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল মিয়ার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল ইসলামকে সরাসরি ‘ইবলিশ’ বলে আখ্যায়িত করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই ঘটনার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল মিয়া। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কার্যালয় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছিলেন। শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতি বনাম প্রধান শিক্ষকের এমন চরম ভাষা প্রয়োগ নিয়ে এখন পুরো উপজেলা জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় শিক্ষক সমাজের মধ্যেও তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন শিক্ষক মহলের অনেকেই বলছেন, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে, তবে একজন শিক্ষকের মুখ থেকে এমন শব্দ চয়ন সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত অশোভন এবং মর্যাদা হানিকর।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রধান শিক্ষক হেলাল মিয়া তার মন্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষকেরা ওই কর্মকর্তার অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং স্বেচ্ছাচারিতার কাছে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি হয়ে আছি। সাক্ষাৎকারের সময় চরম রাগের মাথায় আমি ‘ইবলিশ’ শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলেছি। তবে আমি আমার দেওয়া দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সঠিক বিচার দাবি করছি।”
অন্যদিকে, এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল ইসলাম বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে যে কেউ যেকোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন, সেটি তার অধিকার। তবে আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে গণমাধ্যমে কথা বলার সময় সবার আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া উচিত।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে এক ধরনের চরম উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।