ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যানের নির্মম চাপায় তানজিনা আক্তার (৩২) নামের এক গৃহবধূর বেদনাদায়ক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর মোড় এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত তানজিনা আক্তার কুমিল্লা সদর উপজেলার অন্তর্গত কোটবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেনের সহধর্মিণী। আমজাদ হোসেন আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিসিএল) একজন উচ্চপদস্থ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সকালে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন নিজেই মোটরসাইকেল চালিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী ভৈরব শহরের এক চিকিৎসকের চেম্বারে যাচ্ছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর এলাকা অতিক্রম করার সময় ঢাকামুখী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান (যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪১৯৫) পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। কাভার্ডভ্যানের এই প্রচণ্ড ধাক্কায় মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তানজিনা আক্তার ছিটকে শক্ত মহাসড়কের ওপর পড়ে যান এবং মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনার পর পর আশেপাশের স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তানজিনা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও হাইওয়ে পুলিশ ধাওয়া করে ঘাতক কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করতে সক্ষম হয় এবং এর চালককে আটক করে হেফাজতে নেয়। এই ঘটনার বিষয়ে খাটিহাতা হাইওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার আব্দুল বাতেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত তানজিনা আক্তারের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে কোনো প্রকার যানজটের সৃষ্টি হয়নি, যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। এই ঘটনায় থানায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা দায়েরের আইনি কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।