ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

জামালপুরে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: ৭ আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:২৭ পিএম

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় রাতের আঁধারে এক গৃহবধূকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় অপর এক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টায় জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিজ্ঞ বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), মো. বিজু মিয়া (৩৬), মো. বাদশা মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৫), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), জসিম এবং আছমত। অন্যদিকে, এই মামলার অন্যতম আসামি মো. ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে আনীত অপরাধের তথ্য-প্রমাণ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে মামলা থেকে খালাস প্রদান করেছেন।

ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. ফজলুল হক মামলার বিবরণী তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “গত ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পরিকল্পিতভাবে বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষীয়া এলাকায় ওই গৃহবধূকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত নির্জন ঘরে নিয়ে আটকে রেখে পৈশাচিক ও সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।”

আইনজীবী আরও জানান, মামলাটির দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। এছাড়া ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার চিকিৎসা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত এবং আদালতে উপস্থাপিত অন্যান্য অকাট্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে বিজ্ঞ বিচারক ৭ আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সত্যতা খুঁজে পান। এর প্রেক্ষিতে আদালত তাদের প্রত্যেককে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন। অন্যদিকে মো. ইদ্রিস আলীর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। এই যুগান্তকারী রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর