ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কদিন আগেই আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ক্যারিয়ারের মাত্র একটি ম্যাচ খারাপ খেললেই সাধারণ মানুষ ও সংবাদমাধ্যম তার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করে। বয়স এবং সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রতিনিয়ত সমালোচকদের এমন মন্তব্য শুনতে শুনতে যে সিআরসেভেন ভেতরের দিকে কতটা বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ, সেটি এবার প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনেই রাখঢাক না রেখে উগরে দিলেন। পর্তুগিজ এই মহাতারকা এক গণমাধ্যমকর্মীর প্রশ্নে কিছুটা মেজাজ হারিয়ে উল্টো চড়া সুরে দাবি করেন, তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে ওই নির্দিষ্ট সাংবাদিক তাকে মোটেও পছন্দ করেন না।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের প্রেস কনফারেন্সে শুরু থেকেই উপস্থিত সাংবাদিকদের মূল আগ্রহ ও কৌতুহলের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বুটজোড়া তুলে রাখার বিষয়টি। অবসর নিয়ে বারবার একই কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত ও বিরক্ত ৪১ বছর বয়সী রোনালদো তাই সরাসরিই গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আপনাদের কথায় বা চাপে পড়ে তো আর আমি ফুটবলকে বিদায় জানাব না। আমার নিজের যখন মন থেকে ইচ্ছে হবে, তখনই আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নেব। এখন আমি মাঠে নিজের খেলাটা স্রেফ উপভোগ করছি।’
তবে শুধুমাত্র এইটুকু বলেই পর্তুগিজ অধিনায়ক তার ক্ষোভের প্রকাশ থামিয়ে রাখেননি। সংবাদ সম্মেলনে বসা এক নির্দিষ্ট সাংবাদিককে সরাসরি আঙুল উঁচিয়ে দেখিয়ে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন। ব্রাজিলিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক মার্সেলো বেলচারকে উদ্দেশ্য করে রোনালদো বলেন, ‘আপনিই এবার প্রশ্নটি করুন। আমি খুব ভালো করেই জানি যে আপনি আমাকে একদমই পছন্দ করেন না। দয়া করে এবার আমাকে একটা অন্তত ভালো প্রশ্ন করুন তো!’
রোনালদোর এমন সরাসরি আক্রমণের পর মাইক্রোফোন হাতে পেয়ে সাংবাদিক বেলচার প্রশ্ন করেন, ৪১ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের এই শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং বিষয় কোনটি? ঠোঁটকাটা ও আগ্রাসী জবাব দিতে রোনালদো এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করেননি। তিনি তীব্র কটাক্ষের সুরে জবাব দেন, ‘সবচেয়ে কঠিন বিষয়? এই মুহূর্তে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো আপনার মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া এবং কথা বলা। বিশেষ করে সেই সব সাংবাদিকদের সাথে, যাঁরা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে একদমই দেখতে পারেন না। আমি নিশ্চিতভাবে জানি আপনিও তাঁদের দলেরই একজন। ফুটবল মাঠে দীর্ঘ দিন ধরে কত মানুষের সাথে কথা বলি, সবার চেহারা মনে থাকে না। তবে আপনার চেহারাটা আমার খুব ভালোভাবেই স্মৃতিতে জমা আছে।’
উল্লেখ্য, চলতি বিশ্বকাপের আসর শুরু হওয়ার আগে রোনালদোর আপন বোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এই মেগা টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরপরই জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেবেন সিআরসেভেন। তবে রোনালদো আজ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আবেগের বশে বা কারও চাপে পড়ে কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবেন না। তবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড এটিও নিশ্চিত করেছেন যে, এটাই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। সাংবাদিক বেলচারকে দেওয়া জবাবের সূত্র টেনেই রোনালদো আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘যতটা সম্ভব আমি এই বিশ্বকাপটাকে মনের আনন্দে উপভোগ করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। কারণ, বাস্তব সত্য হলো এটাই আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ আসর। আমি আশা করছি, স্পেনের বিপক্ষে আমাদের পরবর্তী ম্যাচটাই যেন এই বিশ্বকাপে আমার শেষ ম্যাচ না হয়ে দাঁড়ায়।’