ফুটবল ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়েও সবুজ মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে সমানভাবে প্রতিনিয়ত খবরের শিরোনাম হয়ে চলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকাকে ঘিরে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় যেন কখনোই থামবার নয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পর্তুগিজ যুবরাজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অবসর নিয়ে প্রতিনিয়ত সংবাদমাধ্যমে নানা রকম তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে এসব বৈরী আলোচনা বা সমালোচনা নিয়ে মোটেও বিচলিত বা চিন্তিত নন সিআর সেভেন। বরং তাকে মাঠ থেকে ছিটকে দেওয়ার চেষ্টায় মত্ত থাকা সমালোচকদের উদ্দেশে এবার একবারে সরাসরি ও কড়া ভাষায় এক হুঙ্কার ছেড়েছেন তিনি।
নিজের দীর্ঘ ফুটবল পথচলার অভিজ্ঞতার কথা টেনে রোনালদো সমালোচকদের মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা গত ২৩ বছর ধরে অবিরামভাবে আমাকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিশ্চয়ই এত দীর্ঘ দিনে অন্তত এইটুকু বুঝে গেছেন যে, আমার পেছনে এভাবে লেগে থেকে কোনো লাভ নেই। এটি আপনাদের মূল্যবান সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তবুও আপনারা এক অদ্ভুত কারণে এখনো সেই চেষ্টা নিয়মিত করেই যাচ্ছেন।” পর্তুগিজ অধিনায়ক অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই এমন আলোচনা, সমালোচনা আর নিন্দার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন এবং বহু আগেই তিনি এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিয়েছেন। নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এসব সমালোচনার সঙ্গে আমি এখন পুরোপুরি অভ্যস্ত এবং এগুলো আমার খেলায় কোনো প্রভাব ফেলে না।”
বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের মতো পরম আরাধ্য অর্জনের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত অবস্থান, ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠত্ব বা সুদীর্ঘ অর্জনকে কোনোভাবেই এক করে দেখতে নারাজ ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড। তার মতে, একটি মাত্র টুর্নামেন্টের শিরোপা কখনোই তার এত বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করতে পারে can না। নিজের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি বোঝাতে গিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপের একটি ট্রফি জিতলেই আমি হঠাৎ করে আরও অনেক বড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়ে যাব, আর সেটি না জিতলে ফুটবল ইতিহাসে আমার নাম ছোট হয়ে যাবে—বিষয়টা মোটেও তেমন নয়।”
রোনালদোর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ট্রফি দিয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেয়ে নিজের ফুটবলীয় সামর্থ্যের প্রতি তার বিশ্বাস অনেক বেশি অটুট। সমালোচকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের রাজত্ব ধরে রাখার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছেন, তা ফুটবল বিশ্বে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্যারিয়ারের শেষ লগ্নে এসেও তার এমন আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ প্রমাণ করে কেন তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মানসিকতার খেলোয়াড়।