ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

শুধু প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৭ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৪:৫০ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে শতভাগ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে এক দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ট্রাইব্যুনালে পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’-এর বিধি ৪৩ এবং বিধি ৪৫সি অনুযায়ী এ পর্যন্ত ১৭টি স্পর্শকাতর মামলায় পলাতক আসামিদের পক্ষে আইনি আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি খরচে ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা প্রকৃতপক্ষে অপরাধ করেছে, সুনির্দিষ্টভাবে শুধু তাদের বিচার নিষ্পত্তি করার জন্যই বর্তমান সরকার সব ধরণের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকারের নিকট জমা দেওয়া এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বেলা ৩টায় শুরু হওয়া সংসদের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভুক্তভোগী বা ভুক্তভোগীদের পরিবারের পক্ষ হতে গুম, খুন ও নির্যাতনের অনেক মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই সব মামলায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অনেককে হয়রানির উদ্দেশ্যে জড়ানোর দাবি করা হয়েছে। এই সব মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?”

সংসদ সদস্যের এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দেশজুড়ে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত ও নিখুঁত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে উভয় ট্রাইব্যুনালে দায়েরকৃত মামলাগুলোর বিচার কার্যক্রম অত্যন্ত নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।” আইনমন্ত্রী আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যunalের পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে অধিকতর স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার অত্র সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করেছে। ওই বিশেষ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে জাতিসংঘ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের এই বিচারকার্য সশরীরে পর্যবেক্ষণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।”

একই সঙ্গে বিশেষ ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল শুনানি, সাক্ষ্য হিসেবে সব ধরণের ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং মামলার যেকোনও পর্যায়ে ‘অ্যাডিশনাল উইটনেসেস’ এবং ‘ফার্দার এভিডেন্স’ উপস্থাপনের আধুনিক বিধান সংযোজন করা হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। বিচার কার্যক্রম যাতে অযথা বিলম্বিত না হয়, সেজন্য অন্তর্বর্তী আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হলেও ট্রাইব্যুনালের তদন্ত ও মূল বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক হওয়ার মাধ্যমে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ ফ্রিজ বা ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার পাওয়ার অধিকার, আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রাপ্তি এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে যোগাযোগের অধিকারও নিশ্চিত করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর