নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা উদীয়মান, সম্ভাবনাময় ও প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার সবচেয়ে বৃহৎ ও জনপ্রিয় কর্মসূচি 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস'-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত আসর আগামী ১৮ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের ঐতিহাসিক এই মেগা প্রতিযোগিতার সমাপনী ও বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৭ জুলাই ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনি দেশসেরা বিজয়ী খুদে অ্যাথলেটদের হাতে চূড়ান্ত পুরস্কার তুলে দেবেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গণমাধ্যমকে এই বিশেষ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' থেকে তৃণমূল পর্যায় থেকে উঠে আসা এই প্রতিভাবান ও প্রতিশ্রুতিকবান খুদে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে ইতিমধ্যেই এক সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই খুদে ও তরুণ অ্যাথলেটদের বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নত প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ নির্দেশনার অংশ হিসেবে প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ (বিকেএসপি) দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ সরকারি তত্ত্বাবধানে আধুনিক ও উন্নত ট্রেইনিংয়ের সুযোগ করে দেওয়া হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিবিড় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা তাদের আগামী দিনে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্বকারী পেশাদার বৈশ্বিক অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তুলতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সাহায্য করবে। এছাড়া এই বৃহৎ জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে সবচেয়ে প্রতিভাবানদের বিকেএসপিতে সরাসরি ও বিনা পরীক্ষায় ভর্তির এক অনন্য সুযোগও তৈরি করে দেয়া হবে। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের এই সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উদ্যোগের ফলে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন উদ্দীপনা ও জাগরণের সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান ও গৌরব আরও সুদৃঢ় হবে। আগামী দিনের ক্রীড়া উন্নয়নে এই কর্মসূচি একটি বড় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
এবারের বহুল প্রতীক্ষিত আসরে ক্রিকেট, ফুটবলসহ মোট আটটি ভিন্ন ইভেন্টের রোমাঞ্চকর খেলা ঢাকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানের ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত ভেন্যুগুলো হলো—মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম, মিরপুর সুইমিং পুল, শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ঢাকা আর্মি স্টেডিয়াম। যদিও মাঠের মূল লড়াই আগামী ১৮ জুলাই থেকেই মাঠে গড়াবে, তবে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক জমকালো উদ্বোধন হবে ২১ জুলাই। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জাতীয় পর্যায়ের এই মেগা অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। দেশের একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে নিখাদ ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে এবং অপশক্তির হাত থেকে তরুণদের বাঁচাতে এই টুর্নামেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়াবোদ্ধারা।