ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বন্যা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৮:৪০ এএম

টানা রেকর্ড বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলার আজকের (বুধবার) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষর করা এক জরুরি আদেশে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এর আগে গতকাল রাতেই পৃথক দুটি আদেশে প্রাথমিকভাবে কেবল চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বোর্ডের অধীনস্থ সব জেলার পরীক্ষাই স্থগিত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।

অবশ্য চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন জেলাগুলো ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আজকের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তীতে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এবারই প্রথম সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


টানা দুই দিনের অতি ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তরের উপাত্ত অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ৩৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিগত ৪৩ বছরের মধ্যে জুলাই মাসের একক কোনো দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। এই প্রবল বর্ষণের জেরে দেয়াল ধসে এবং পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরী, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি ও কক্সবাজারে মোট ছয়জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির মধ্যকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং গ্রামীণ বহু অভ্যন্তরীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে না পেরে ফিরে গেছে। অন্যদিকে, রেললাইনের ওপর ব্যাপক পানি জমে থাকায় প্রায় এক হাজার যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর এলাকায় আটকা পড়ে কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে পর্যটন জেলা কক্সবাজার। গত দুদিনের ভারী বর্ষণে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বিভিন্ন ব্লকে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৯৩টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর উপজেলা, টেকনাফ, রামু, মহেশখালী, চকরিয়া ও পেকুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে সাধারণ মানুষের জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর