ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

আবেগঘন বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত মিসরের কোচ হোসাম হাসান


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৬:২৬ পিএম

মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের প্রতি মানবিক সংহতি প্রকাশ করে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরবিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে হোসাম হাসান বলেন, পৃথিবীতে যদি এমন একজন মানুষও থাকেন, যিনি ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করেন না, তাহলে তাকে প্রকৃত অর্থে মানুষ বলা যায় না। তিনি বলেন, একজন মানুষের পরিচয় আরব, ইউরোপীয়, আমেরিকান বা অন্য যেকোনো জাতিগত বা ভৌগোলিক পরিচয়ের হোক না কেন, মানবিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আজকের বিশ্বে অনেক সময় কোনো প্রাণীর ক্ষতি হলেও মানুষ প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠে। অথচ গাজায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ, শিশু ও নারী নিহত হলেও সেই মাত্রার মানবিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। এই বাস্তবতা গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হোসাম হাসান মনে করেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বরং এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ‘সফট পাওয়ার’ বা নমনীয় কূটনৈতিক শক্তি। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাই এই মঞ্চকে মানবিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।

তিনি বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধর্ম, জাতি বা দেশের পরিচয় ভুলে মানবতার পক্ষে কথা বলা উচিত। বিশ্বকাপের মতো বড় আয়োজনের মাধ্যমে যদি একটি মানবিক বার্তাও বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে, অনুগ্রহ করে—সব ক্রীড়াবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী, তাদের ধর্ম বা দেশের পরিচয় যাই হোক না কেন, হয়তো বিশ্বকাপের মাধ্যমে আমরা একটি বার্তা দিতে পারি। তারা কিছুই চান না, শুধু বেঁচে থাকতে চান।’

এই বক্তব্যের কয়েক দিন আগেই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয় উদযাপনের সময়ও হোসাম হাসানকে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে দেখা যায়। ম্যাচ শেষে তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা উঁচিয়ে ধরে দলের সাফল্য উদযাপন করেন। তাঁর সেই প্রতীকী ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাঁর প্রকাশ্য সমর্থন নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

হোসাম হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে আরব বিশ্বের অসংখ্য ব্যবহারকারী তাঁর বক্তব্যকে মানবিক ও সাহসী অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক মঞ্চকে তিনি কেবল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণের একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ফলে তাঁর বক্তব্য খেলাধুলার গণ্ডি ছাড়িয়ে মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ এবং বৈশ্বিক সচেতনতার আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর