স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, মেসিকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ফুটবল বিশ্ব জানে তিনি কতটা অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। তবে এই বয়সেও যেভাবে তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
ইয়ামালের ভাষায়, ‘অবিশ্বাস্য। মেসিকে সবাই চেনে। কিন্তু এই বয়সে এসেও তার কাছ থেকে এমন পারফরম্যান্স, হয়তো কেউ আশা করেনি। এ কারণেই আমি তাকে নিয়ে সত্যিই আনন্দিত।’
২০২২ সালের বিশ্বকাপে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেই অর্জনের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপে তার আর প্রমাণ করার কিছু নেই। কিন্তু চলতি আসরে তার পারফরম্যান্স যেন সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করছে।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছেন মেসি। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো, আক্রমণ সাজানো এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও সমান দক্ষতায় পালন করছেন তিনি। দলের মোট ১৪ গোলের মধ্যে ৮টিতেই সরাসরি অবদান রেখে আবারও নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার।
মাত্র অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা লামিন ইয়ামাল মনে করেন, মেসির মতো কিংবদন্তিদের কাছ থেকে বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে। বিশেষ করে বয়স বাড়লেও কীভাবে কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং মানসিক দৃঢ়তা ধরে রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়, তার উজ্জ্বল উদাহরণ মেসি।
সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল শুধু মেসির কথাই বলেননি, ফুটবল বিশ্বের আরও দুই কিংবদন্তি নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতিও নিজের শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। যদিও চলতি বিশ্বকাপ থেকে আগেই বিদায় নিয়েছেন এই দুই তারকা, তবুও তাদের অবদান কখনো ভোলা সম্ভব নয় বলে মনে করেন স্পেনের এই তরুণ ফুটবলার।
ইয়ামাল বলেন, ‘নেইমার ও রোনালদোকেও নিয়ে আমি আনন্দিত। যদিও তারা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন যারা খেলছে, তাদের শৈশব রাঙানোর নায়ক ছিলেন তারা।’
তার এই মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এক প্রজন্মের কিংবদন্তিদের প্রতি সম্মান দেখানোর মধ্য দিয়ে নিজের পরিণত মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে লিওনেল মেসির ধারাবাহিক নৈপুণ্য এবং তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা আবারও প্রমাণ করেছে, বয়স শুধু একটি সংখ্যা। আর সেই কারণেই ফুটবল বিশ্বের নতুন প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রতিভা লামিন ইয়ামালের মতো একজন খেলোয়াড়ও প্রকাশ্যে মেসির প্রশংসা করতে দ্বিধা করেননি।