ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু, প্লাবিত ১৫০ গ্রাম


  • আপলোড সময় : শনিবার ১১ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১২:৩৭ পিএম

টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রবল বর্ষণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে গত সাত দিনে পানিতে ডুবে এবং মাটি চাপা পড়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় পুরো জেলার প্রায় তিন লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে এবং পানিবন্দি হয়ে দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার পর নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে এক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে রসুলাবাদ অঞ্চলের আবদুল মালেকের ১২ বছর বয়সী কন্যা হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা প্রাণ হারায়। তবে সৌভাগ্যবশত ঝর্ণার বাকি দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগের দিন কাকারা ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে সোলতান আহমদের দুই বছরের শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিম মারা যায়। একই দিনে চকরিয়া থেকে পৃথক হওয়া নতুন মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে আরিফুল ইসলামের তিন বছরের ছেলে পুষ্পর মৃত্যু হয়। চকরিয়ার মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে বসতঘরের ওপর পড়লে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশুর করুণ মৃত্যু হয়। এছাড়া কক্সবাজার সদর, পেকুয়া এবং উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরও ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।


স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বন্যার পানিতে কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অবস্থা সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। এছাড়াও কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানান, পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে চকরিয়া ও পেকুয়াসহ সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (যিনি মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন) জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরী এলাকাতেই এক লাখের বেশি মানুষ জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছে। দুর্গতদের জন্য ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং সেখানে জরুরি শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য স্লুইস গেটগুলো সচল রাখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান জানান, সরকারি তালিকায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১৪ হাজার ৬১ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকারি তহবিল থেকে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নগদ ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান সতর্ক করে বলেছেন, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী দুই দিন এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, যা বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাবে এবং নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়াবে। এই কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর