দেশব্যাপী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ ও মেধার স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের পরীক্ষায় সর্বমোট ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভের গৌরব অর্জন করেছে। ঘোষিত ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ও বৃত্তির সংখ্যায় এক অভাবনীয় সাফল্য লক্ষ্য করা গেছে। মোট বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ৪৩,৩৫৪ জন (৫৪.৭১ শতাংশ) এবং ছাত্রের সংখ্যা ৩৫,৮৯২ জন (৪৫.২৯ শতাংশ)।
রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ও পরিসংখ্যান বিবরণী প্রকাশ করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এই মেধা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মেধার ভিত্তিতে ট্যালেন্টপুল বা মেধাবৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ কোটায় বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী, এবার দেশজুড়ে ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সিংহভাগ কোটা সংরক্ষিত রাখা হয়। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির ক্ষেত্রে সরকারি স্কুলের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ শতাংশ কোটা বণ্টন করা হয়। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তির আওতায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক মেধা ও জেন্ডার সমতার ভিত্তিতে সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ৩৯ হাজার ৬০০টি বৃত্তি পেয়েছে এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য উপজেলাভিত্তিক ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত ছিল।
এবারের মেধা যাচাই লড়াইয়ে সারা দেশের মোট ৭৮ হাজার ৮১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার মধ্যে বড় অংশই ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মোট নিবন্ধিত ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৮২ জন (৬৫.১১ শতাংশ) পরীক্ষায় সশরীরে উপস্থিত ছিল। উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যেও ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল ৬০.৩২ শতাংশ, যা ছাত্রদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
চূড়ান্ত ফলাফলে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয় থেকে ২৬ হাজার ৩৭৫ জন এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ৬ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছে। সাধারণ বৃত্তির তালিকায় সরকারি স্কুলের ৩৬ হাজার ৪২০ জন এবং বেসরকারির ৯ Leader ৮৬১ জন শিক্ষার্থী স্থান পেয়েছে। এদিকে, মিরপুরে অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে দুপুরের পর থেকেই ওয়েবসাইটে বৃত্তির ফলাফল আপলোডের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল সম্পূর্ণভাবে দেখতে পাবেন।