বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠের লড়াইয়ে বীরত্বের সাথে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হৃদয়বিদারক পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলবিসেলেস্তেরা যখন সেমিফাইনাল নিশ্চিতের উল্লাসে মত্ত, ঠিক তখনই বিষণ্ণ মন নিয়ে ফিফার শাটলে চড়ে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে হাজির হন সুইসদের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনার পরপরই স্ট্রাইকার ব্রিল এম্বোলো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউরোপের এই দেশটি, যা পুরো ম্যাচের গতিপথ আলক্ষ্যে বদলে দেয় এবং অতিরিক্ত সময়ে তাদের ২ গোল হজম করে বিদায় নিতে হয়।
ম্যাচ পরবর্তী প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বিতর্কিত লাল কার্ড ও মাঠের রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে সুইস কোচ তাঁর গভীর ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন। মুরাত ইয়াকিন বলেন, "রেফারি ও ভিএআরের (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) ওই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দুঃখজনক ছিল। ওই একটি ঘটনার পরই আমাদের দলের চেনা ছন্দপতন ঘটে, যা সামগ্রিকভাবে পুরো ম্যাচের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।"
ম্যাচের সেই নাটকীয় মুহূর্তে রেফারি প্রথমে আর্জেন্টিনার এক ফুটবলারকে ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভিডিও রেফারি মূল রেফারিকে অন-ফিল্ড মনিটরে বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করার অনুরোধ জানান। এরপরই রেফারি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে সুইস ফুটবলারকে কার্ড দেখান, যা তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। এই পুরো নাটকীয়তা মোটেও মেনে নিতে পারছেন না সুইস কোচ। তিনি বলেন, "প্রধান রেফারি একদম কাছ থেকে ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এরপর ভিএআরের হস্তক্ষেপে সেটি যেভাবে বদলে গেল এবং আমাদের খেলোয়াড়কে যেভাবে মাঠ থেকে বের করা হলো, তা কোনোভাবেই হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো ফাউল ছিল না।"
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিংয়ের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন চলছে। সংবাদ সম্মেলনে এক লাতিন আমেরিকার সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, ফিফা কি আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে এবং এই আসরে ভিএআরের ভূমিকা কেমন? এর আগে মিশরের প্রধান কোচও আর্জেন্টিনাকে ট্রফি জেতাতে ফিফারচ্ছন্ন কারসাজির গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন। তবে সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন সেই অভিযোগের সুর মেলাননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমার মনে হয় না তারা কোনো বাড়তি সুবিধা বা ফেভার পাচ্ছে। মাঠে দুটি সমান শক্তির দলের লড়াই হয়েছে এবং তারা শ্রেয়তর দল হিসেবেই ম্যাচটি জিতেছে। আমাদেরও জয়ের সমান সুযোগ ছিল, কিন্তু রেফারির ওই একটি সিদ্ধান্ত আমাদের জয় থেকে দূরে ঠেলে দিল, যা মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কষ্টের; বিশেষ করে যখন আমার ছেলেরা এতটা দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে।"
বিগত ২০২২ সালের বিশ্বমঞ্চেও ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল, তবে এবারের আসরে এর অতিরিক্ত এবং সূক্ষ্ম প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ফিফার আনা কিছু নতুন নিয়মকে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে মুরাত ইয়াকিন মন্তব্য করেন, "বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের ঠিক আগে এমন বড় নিয়ম পরিবর্তনের কোনো দরকার ছিল না। মাঠের রেফারির নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। প্রযুক্তির কাজ হওয়া উচিত জটিলতা কমানো, বাড়ানো নয়।"