দেশের উন্নয়ন ও তৃণমূলের মানুষের খোঁজ নিতে একদিনের সরকারি সফরে বরিশাল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধান হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। বরিশালে পা রেখেই তিনি পরিবেশ রক্ষায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগে শামিল হয়েছেন। গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে সদ্য খনন করা সরিকল খালের তীরে গাছ লাগিয়ে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় মানুষের কল্যাণে পরিচালিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
সোমবার সকাল ছয়টার দিকে রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের নিজ বাসভবন থেকে সড়কপথে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তিনি গন্তব্যে পৌঁছান। সফরসূচির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী গৌরনদীর সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে আয়োজিত পরিবেশবান্ধব কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে তিনি একযোগে প্রায় দুই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের সূচনা করেন। এরপর শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে যুক্ত হওয়া ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি, যেখানে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন।
গৌরনদীর কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফার বৃক্ষরোপণে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি বরিশালের বিখ্যাত জিআই স্বীকৃত আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা নিজ হাতে রোপণ করবেন। এই কর্মসূচির আওতায় পুরো খালপাড় জুড়ে শতাধিক দেশীয় ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীগণ, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোনো ধরনের তোরণ, ব্যানার বা ফেস্টুন ব্যবহার না করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা মেনে নেতাকর্মীরা এক অভিনব উপায়ে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। গৌরনদী থেকে বরিশাল নগর পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দু’পাশে কোনো ব্যানার ছাড়াই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন বা মানবপ্রাচীর তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাবেন দলীয় কর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের এই প্রথম বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জেগেছে। তবে জনগণের যেন কোনো ভোগান্তি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছে।
বরিশালের জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে প্রশাসন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সব কর্মসূচি শেষ করে আজ সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।