ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

মেসিকে ‘ঘুম পাড়ানোর’ হুঙ্কার জো কোলের, রোমাঞ্চকর সেমির অপেক্ষায় ইংল্যান্ড


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১১:৩৩ এএম

ক্রীড়া ডেস্ক   

বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দ্বৈরথ দেখার অপেক্ষায় ক্রীড়াবিশ্ব। বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। আটলান্টার মাঠে বুধবারের এই মহাম্যাচকে ঘিরে দুই শিবিরেই পারদ চড়তে শুরু করেছে। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই কথার লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন সাবেক তারকারা। আলবিসেলেস্তেদের জাদুকর লিওনেল মেসিকে বোতলবন্দি করতে এক অভিনব ও আত্মবিশ্বাসী কৌশলের কথা শুনিয়েছেন সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড জো কোল। থমাস টুখেলের শিষ্যরা এবার আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে ফাইনালে পা রাখবে বলে শতভাগ নিশ্চিত তিনি।

নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের একটি বিশেষ টকশোতে সাবেক ইংলিশ তারকা গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার এবং মাইকা রিচার্ডসের সঙ্গে ফুটবল আড্ডায় মেতেছিলেন জো কোল। আলোচনার এক পর্যায়ে বিষয়টি মোড় নেয় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির প্রথম ম্যাচ এবং তাকে আটকানোর কৌশলের দিকে। ক্যারিয়ারে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা সাবেক চেলসি ও লিভারপুল তারকা কোল বেশ জোরালো গলায় দাবি করেন, মাঠে মেসিকে নিষ্ক্রিয় বা ঘুম পাড়িয়ে রাখার সামর্থ্য ইংল্যান্ডের রয়েছে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের অবশ্যই তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়াতে যাচ্ছি, এটা শতভাগ নিশ্চিত।’

তবে জো কোলের এমন অতি-আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের সঙ্গে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য সাবেক ফুটবলাররা পুরোপুরি একমত হতে পারছিলেন না। রোজারিও থেকে উঠে আসা ফুটবল জাদুকর মেসি যদি আরও একটি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে বসেন, সেই ভয় কাজ করছিল তাদের মনে। তারা কোলকে সতর্ক করে বলেন, ‘এখনই এমন বড় কথা বলো না। এই বিষয়ে আমরা আট মাস পর কথা বলব।’ কিন্তু কোল নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দ্বিগুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যোগ করেন, ‘আমি এখনই জোর দিয়ে বলছি, আমরা এবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে যাচ্ছি।’

একই অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন মাইকা রিচার্ডসও। তবে তিনি মনে করেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিদায় করাটা থমাস টুখেলের দলের জন্য মোটেও সহজ হবে না। ইংলিশদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি ঘাম ঝরাতে হবে। কারণ আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা অত্যন্ত ধূর্ত এবং তাদের মধ্যে এক অপরাজেয় বিজয়ী মানসিকতা কাজ করে। অবশ্য নিজের দলের ওপরও ভরসা হারাচ্ছেন না রিচার্ডস। তিনি থমাস টুখেলের দলের মূল শক্তির দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, ‘আর্জেন্টিনার শারীরিক ও কৌশলী শক্তির সঙ্গে লড়াই করার মতো পর্যাপ্ত গতি আমাদের স্কোয়াডে রয়েছে। আমি ভেতর থেকে অনুভব করছি যে এবার আমরাই জিততে যাচ্ছি।’

লিওনেল মেসিকে নিয়ে জো কোলের এমন কঠোর মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। কারণ অতীতে এই কোলই বহুবার প্রকাশ্যে মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। এমনকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়েও মেসিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এই বিশ্বকাপের ঠিক আগেই কোল বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো হয়তো রাতে ঘুমানোর সময় বালিশে মাথা ঠুকে ভাবেন—ইস, আমি যদি মেসির মতো নিখুঁত হতে পারতাম! মেসি আসলে এক অনন্য উচ্চতায় রয়েছে। ওই একমাত্র ফুটবলার যে বিশ্বফুটবলের সবকিছু জয় করেছে। তাই দিনশেষে শান্তিতে ঘুমানোর অধিকার শুধু তারই আছে।’

এদিকে এই হাইভোল্টেজ ও ঐতিহাসিক লড়াইয়ের আগে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে ছাড়েননি আরেক সাবেক ব্রিটিশ তারকা গ্যারি নেভিল। তবে স্কাই বেটের এই বর্তমান ধারাভাষ্যকার মেসিকে ছেড়ে কথা বললেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়ে বেশ খোঁচা দিয়েছেন। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের রক্ষণ জুটিকে নিশানা করে নেভিল বলেন, ‘এই দলে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্টিনেজের মতো ডিফেন্ডাররা রয়েছে, যাদের খেলা দেখে মাঝে মাঝে মনে হয় তারা প্রতি ম্যাচেই নিজেদের মারাত্মক ভুলে প্রতিপক্ষকে গোল উপহার দেবে। আবার ঠিক তার পরের মুহূর্তেই যখন মাঠে তাদের পারফরম্যান্স দেখবেন, মনে হবে তারা এক একজন অতিমানব। প্রতিটা হেডার জিতছে, গোল করছে এবং মাঠের সব জায়গায় প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিটা গায়ে জড়ালেই তাদের মধ্যে অলৌকিক কিছু একটা ঘটে যায়, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’

শেষে আর্জেন্টিনার এই রক্ষণভাগকে বিশ্বের ‘সেরা-বাজে’ সেন্ট্রাল ব্যাক জুটি হিসেবে আখ্যায়িত করেন নেভিল। তাঁর মতে, কিছু কিছু মুহূর্তে তারা অনন্য সাধারণ ও বিশ্বমানের ডিফেন্ডিং প্রদর্শন করে, আবার ঠিক তার পরের মুহূর্তেই সেই চমৎকার পারফরম্যান্স থেকে একদম হাস্যকর ও যাচ্ছেতাই পর্যায়ে নেমে যায়। মাঠের লড়াইয়ে এই রক্ষণভাগের দুর্বলতা ইংল্যান্ড কতটা কাজে লাগাতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর