দীর্ঘ ৬০ বছরের খরা কাটিয়ে বিশ্বফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশনে নেমেছে ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার লক্ষ্যে বুঁদ হয়ে থাকা থ্রি লায়নরা পৌঁছে গেছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ২০১৮ সালের আসরে ক্রোয়েশিয়ার কাছে সেমির বাধা টপকাতে না পারার ক্ষত এখনো দগদগে ইংলিশ শিবিরে। তবে এবার তাদের সামনে আরও বড় ও কঠিন প্রতিপক্ষ—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আটলান্টার মহরণকে সামনে রেখে থ্রি লায়নদের অধিনায়ক হ্যারি কেইন হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের ‘আসল রূপ’ দেখানোর জন্য মুখিয়ে আছে তাঁর দল।
গত শনিবার অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তায় নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী বুধবার আটলান্টার ঐতিহাসিক মাঠে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মহারণে নামবে তারা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি ইংলিশদের প্রধান কোচ থমাস টুখেল। ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে টুখেল বলেছিলেন যে, তাঁর দল কেবল ভাগ্যের জোরে জিতেছে। মাঠের খেলায় ফুটবলাররা উদাসীন ছিলেন, প্রচুর টেকনিক্যাল ভুল করেছেন এবং দল হিসেবে তারা যথেষ্ট গতিশীল কিংবা আক্রমণাত্মক ছিলেন না।
কোচের এমন হতাশা ও কড়া সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন ৩২ বছর বয়সী ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। চলতি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে ৬টি গোল করে জুড বেলিংহামের সঙ্গে যৌথভাবে দলের শীর্ষ গোলদাতা কেইন মনে করেন, অনুশীলনের সেরা পারফরম্যান্স ম্যাচে ফুটিয়ে তুলতে না পারার কারণেই টুখেল অসন্তুষ্ট হয়েছেন। কেইন বলেন, ‘কোচ যখন অনুশীলনে আমাদের খেলোয়াড়দের আক্রমণ করার ধরন, ওয়ান-টু-ওয়ান ড্রিবলিং ও স্কিল দেখেন, তখন স্বভাবতই তিনি মাঠের মূল খেলাতেও আমাদের সেই চেনা রূপটি দেখতে চান। তিনি ভালো করেই জানেন বিশ্বমঞ্চে কাজটা সহজ নয়, কারণ আমরা বিশ্বের দুর্দান্ত সব দলের বিপক্ষে খেলছি। তবে তিনি আমাদের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করছেন।’
ইংলিশ অধিনায়ক অকপটে স্বীকার করেছেন যে, টুর্নামেন্টে তারা এখনো নিজেদের সেরা খেলাটা মেলে ধরতে পারেননি, কেবল কিছু কিছু মুহূর্তে ভালো খেলার ঝলক দেখিয়েছেন। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও যেভাবে পুরো ম্যাচ নিজেদের পকেটে পুরে রাখতে চান, তা এখনো হয়ে ওঠেনি। তবে সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বসেরা দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে এটিকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন কেইন। তাঁর মতে, সেমিফাইনালে ওঠার পরও দলের পারফরম্যান্সে উন্নতি করার মতো জায়গা থাকাটা আনন্দের। কেইন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের কমতিগুলো নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ থ্রি লায়নরা মাঠের খেলায় অনেক ইতিবাচক দিকও ফুটিয়ে তুলছে, যা আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে ফাইনালে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।