ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

বিশ্বকাপে টাকার ঝনঝনানি: কোন দল কত কোটি পাচ্ছে?


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬ সময় : ২:১১ পিএম

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে কেবল সোনালী ট্রফির শ্রেষ্ঠত্বই নয়, এবার দলগুলোর সামনে অপেক্ষা করছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর্থিক পুরস্কারের ছড়াছড়ি। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ প্রাইজমানির দিক থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। প্রথমবারের মতো ৪৮টি পরাশক্তি দল নিয়ে ৩৯ দিনব্যাপী এবং ১০৪ ম্যাচের এই মহাযজ্ঞে টাকার অঙ্কে নতুন এক ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। প্রাথমিক হিসাব-নিকাশ পেছনে ফেলে এবারের আসরের জন্য সব মিলিয়ে মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি অনুমোদন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এটি কেবল কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আর্থিক বরাদ্দের এক নতুন মাইলফলক।

বিদেশি গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, বিশাল অংকের এই প্রাইজমানির মধ্যে সরাসরি পারফরম্যান্সভিত্তিক পুরস্কার হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৫৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৮১ কোটি টাকা। বাকি ২১৬ মিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা, তা দলগুলোর প্রস্তুতি, যাতায়াত, আবাসন এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হবে। তবে এই অর্থ সরাসরি ফুটবলাররা পাবেন না, এটি যাবে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের তহবিলে। সেখান থেকে চুক্তি অনুযায়ী খেলোয়াড়রা সাধারণত ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ পেয়ে থাকেন।

ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মূল আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করার মাধ্যমেই প্রতিটি দল নিশ্চিতভাবে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং লজিস্টিকস ও ভ্রমণ ব্যয় বাবদ আরও ২.৫ মিলিয়ন ডলার পেয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, মাঠে নামার আগেই প্রতিটি দেশের ঝুলিতে জমা হচ্ছে ১২.৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৫৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এই অর্থ ফিফার টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও টিকিট বিক্রি থেকে অর্জিত বাণিজ্যিক আয়ের অংশ।

চূড়ান্ত লড়াইয়ে যে দল বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় পরবে, তারা পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে পাবে আরও ৫০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এটি কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পাওয়া অর্থের চেয়ে ৮ মিলিয়ন ডলার বেশি। রানার্সআপ দল পাবে ৩৩ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং চতুর্থ হওয়া দল ঘরে তুলবে ২৭ মিলিয়ন ডলার।

কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া মরক্কো, বেলজিয়াম, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের মতো প্রতিটি দল মূল ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৯ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ৩১.৫ মিলিয়ন ডলার করে লাভ করবে। শেষ ষোলোতে বাদ পড়া ব্রাজিল, মেক্সিকো, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কলম্বিয়া, কানাডা ও প্যারাগুয়ে পাবে মোট ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার করে। এছাড়া রাউন্ড অব ৩২ থেকে জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া, জাপানের মতো বিদায় নেওয়া ১৬টি দল পাবে মোট ২৩.৫ মিলিয়ন ডলার করে। এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়া দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো দলগুলোও খালি হাতে ফিরবে না, তারা পারফরম্যান্স বোনাস হিসেবে বাড়তি ৯ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ২১.৫ মিলিয়ন ডলার ঘরে তুলবে। মূলত দলসংখ্যা বৃদ্ধি ও বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ থেকে আয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ফুটবলের এই বিশ্বমঞ্চে অর্থের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে ফিফা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর