দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর ও এর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এই বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন আইন লঙ্ঘন করার সুনির্দিষ্ট অপরাধে মোট ৮টি পৃথক মামলা দায়েরের মাধ্যমে নগদ অর্থ জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একই সাথে মাদক সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে এক ব্যক্তিকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থানে আকস্মিকভাবে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিধান কান্তি হালদার। প্রশাসনের এই আকস্মিক অভিযানে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও আইন অমান্যকারী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলের এই বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে সড়ক পরিবহন আইন অমান্য করা ও লাইসেন্সবিহীন যানবাহন চালানোর অপরাধে মোট ৬টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়। এই ৬টি মামলায় চালকদের কাছ থেকে সর্বমোট ৩ হাজার টাকা নগদ জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর পাশাপাশি, সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১টি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়। আইন অমান্য করে পণ্য বিক্রি ও অনিয়মের অভিযোগে ওই মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ২ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
অপরদিকে, মাদক সেবন ও বিক্রির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত শূন্য সহনশীলতা বা 'জিরো টলারেন্স' নীতির অংশ হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও মাদকসহ হাতেনাতে ধৃত ১ জন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ৩০০ টাকা নগদ জরিমানার পাশাপাশি সরাসরি ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে শ্রীঘরে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিধান কান্তি হালদার। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারাগারে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে জনস্বার্থে এই ধরনের বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও সম্পূর্ণ অব্যাহত থাকবে।