মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি চত্বরে আটকে দিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ের অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিল সহকারে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে এ বাধার মুখে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় পুরো ঢাবি ক্যাম্পাস ও এর আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ছাত্রদলের মধ্যস্থতা ও বিকল্প পথ ধরে যাত্রা
ভিসি চত্বরে পুলিশি বাধার মুখে পড়ার পর একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। তিনি আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চমহলের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার আশ্বাস দেন। এ লক্ষ্যে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মনোনীত করার আহ্বান জানান।
তবে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্দোলন চলমান রেখে ভিসি চত্বরের বাধা পেরিয়ে নতুন রুট ধরেন। তাঁরা মিছিল নিয়ে ইডেন মহিলা কলেজের সামনের রাস্তা হয়ে পুনরায় শিক্ষা ভবনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন।
আজকের এই যৌথ আন্দোলনে ঢাকা সিটি কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাইলস্টোন কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, ঢাকা ওরিয়েন্টাল কলেজ, হামদর্দ পাবলিক কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন।
পরীক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি
আন্দোলনকারী এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সরকারের কাছে তাঁদের ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেছেন। দাবিগুলো হলো:
প্রথম দাবি: দেশে চলমান বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে।
দ্বিতীয় দাবি: গত ১৩ জুলাই (সোমবার) প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যে সমস্ত পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পেরে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য অবিলম্বে পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।
তৃতীয় দাবি: শিক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করে কটূক্তি করা এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়ার দায়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবহাওয়া দপ্তর ও প্রশাসনের বন্যা সতর্কতা উপেক্ষা করে পরীক্ষা নেওয়ায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে গতকাল হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি এবং তীব্র যানজট মাড়িয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। অনেকের খাতা ও প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস শেষ না করেই তাড়াহুড়ো করে পরীক্ষা নেওয়ায় সাধারণ পরীক্ষার্থীরা চরম বৈষম্য ও মানসিক ট্রমার শিকার হয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।