ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আমতলীতে হামের প্রাদুর্ভাব, হাসপাতালে ওষুধ-স্যালাইনের সংকট


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৪ জুলাই, ২০২৬ সময় : ৭:১৪ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

বরগুনার আমতলী উপজেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৩ দিনে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন শিশু আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও আরও ১৫ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু জুলাই মাসের শুরু থেকেই সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকে। গত ১৩ দিনের মধ্যে ৩০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত না থাকায় হাসপাতাল থেকে সব রোগীকে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ওষুধ ও স্যালাইন কিনে আনতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুর স্বজন রাবেয়াতাজিনুর জানান, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইন না পাওয়ায় তাদের নিজ খরচে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তারা দ্রুত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহের দাবি জানান।

হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালের একটি পৃথক ইউনিট রাখা হয়েছে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক শিশু ও তাদের স্বজনকে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি আবাসন সংকটও ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত ইউনিটে শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি। অনেকেই মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বজনদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ হুমায়ুন আহমেদ সুমন বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের কিছুটা সংকট রয়েছে। তিনি জানান, বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার বলেন, নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক কিছু জটিলতার কারণে অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিএনএস স্যালাইনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে খুব শিগগিরই নতুন সরবরাহ পৌঁছালে সংকট কেটে যাবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর