কুমিল্লার আঞ্চলিক স্বার্থ সংরক্ষণ, নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন ‘কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ’। সংগঠনটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কুমিল্লাকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় একাধিক দাবি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘কুমিল্লা’ নামেই বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা হিসেবে বিভিন্ন মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।
এ ছাড়া নাগরিক দুর্ভোগ কমানো, যানজট নিরসন এবং কুমিল্লাকে একটি আধুনিক মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন সময়ে ৯ ও ১২ দফা রূপরেখা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানববন্ধন, জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন রেলপথ নির্মাণ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকার উন্নয়ন এবং কুমিল্লা মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠনের দাবিও জানিয়ে আসছে সংগঠনটি।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সক্রিয় রয়েছে সংগঠনটি। গোমতী নদীর দূষণ রোধ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন আলোচনা সভা, সেমিনার ও জনমত গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত, ফুটপাত সংকুচিত এবং পরিবেশগত প্রভাবের অভিযোগ তুলে কুমিল্লা কারাগারের প্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার বিবেচনায় ময়নামতি এলাকাকে পৃথক উপজেলা ঘোষণা এবং পূর্বে বিভক্ত হওয়া কুমিল্লা-৯ ও কুমিল্লা-১২ সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিও সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে।
সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, সদস্য সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, প্রবীণ সাংবাদিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা, সেমিনার এবং স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির মাধ্যমে কুমিল্লার সার্বিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
সংগঠনের নেতারা মনে করেন, নাগরিক অংশগ্রহণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কুমিল্লাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।