ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

সেমির আগে ‘কাবালা’য় ভরসা আর্জেন্টিনা সমর্থকদের


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:০৭ এএম

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আর্জেন্টিনাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে পুরোনো এক বিশ্বাসের আবহ। সৌভাগ্য বয়ে আনবে—এমন ধারণায় সমর্থকেরা মেনে চলছেন নানা কুসংস্কার বা ‘কাবালা’। কেউ হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের নাম লিখে ফ্রিজে রাখছেন, আবার কেউ আগের ম্যাচে জয় এনে দেওয়া জার্সি, আসন কিংবা খাবারের অভ্যাস একটুও বদলাচ্ছেন না। তাদের বিশ্বাস, এসব রীতিই আর্জেন্টিনাকে আরও একবার বিশ্বকাপের শিরোপার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। খবর রয়টার্স।

আর্জেন্টিনার ফুটবল সংস্কৃতিতে ‘কাবালা’ নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই সমর্থকদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করেন, নির্দিষ্ট কিছু সৌভাগ্যের আচার মেনে চললে দলের পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বড় ম্যাচের আগে এই রীতিনীতিগুলো আরও বেশি গুরুত্ব পায়।

১৩ বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি জানিয়েছে, প্রতিটি ম্যাচের আগে সে ও তার বন্ধুরা প্রতিপক্ষ দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষকের নাম একটি কাগজে লিখে ফ্রিজে রেখে দেয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তারা হ্যারি কেইনের নাম ফ্রিজে রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের ধারণা, এতে প্রতিপক্ষের সেরা খেলোয়াড়ের প্রভাব কমে যাবে।

এই বিশ্বাস এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ছবিতে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের বরফের ব্লকের ভেতরে আটকে থাকার প্রতীকী দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে, তারা যেন মাঠে কার্যকর হতে না পারে, গোল করতে না পারে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য অবদান রাখতে ব্যর্থ হয়।

১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভোও একই ধরনের বিশ্বাসে আস্থা রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামের নামও ফ্রিজে রাখবেন। তার ভাষায়, বেলিংহ্যাম একজন অসাধারণ ফুটবলার হলেও আর্জেন্টিনার জয় নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

কুসংস্কার বা সৌভাগ্যের আচার শুধু সমর্থকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি কোচ কার্লোস বিলার্দো নিজের অদ্ভুত সব রীতিনীতির জন্য সুপরিচিত ছিলেন। বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও ব্যক্তিগতভাবে একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস অনুসরণ করার কথা স্বীকার করেছেন।

স্কালোনি জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবার মাঠে ডান পা দিয়ে প্রবেশ করেন এবং মাঠে নামার আগে ক্রুশ চিহ্ন আঁকেন। তার বিশ্বাস, এই অভ্যাস তাকে মানসিকভাবে ইতিবাচক রাখে।

আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আরেকটি জনপ্রিয় বিশ্বাস হলো, জয় এনে দেওয়া কোনো অভ্যাস পরিবর্তন করা যাবে না। তাই তারা একই জার্সি পরেন, একই জায়গায় বসে খেলা দেখেন, একই বন্ধুদের সঙ্গে ম্যাচ উপভোগ করেন এবং সুযোগ থাকলে একই ধরনের খাবারও খান। তাদের ধারণা, এই ধারাবাহিকতা ভাঙলে সৌভাগ্যও হাতছাড়া হতে পারে।

ইনেস মুত্রিও জানিয়েছে, সে তার আট বন্ধুকে নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ একই স্থানে এবং একই টুপি পরে দেখে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েও সে বেশ আশাবাদী। তার বিশ্বাস, ম্যাচটি কঠিন ও স্নায়ুচাপপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাই জয় পাবে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথ। দিয়েগো ম্যারাডোনার বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল থেকে শুরু করে একাধিক স্মরণীয় নকআউট ম্যাচ—এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। আর সেই ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের ভরসা এখন তাদের বহুদিনের বিশ্বাস—‘কাবালা’।


এ সম্পর্কিত আরো খবর