ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই এখন স্পেনের ফাইনালের নায়ক!


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬ সময় : ১০:২৮ এএম

ফুটবল বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেওয়া এক পরাবাস্তব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী এখন পুরো দুনিয়া। ২০০৭ সালের এক শুভক্ষণে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি অবিশ্বাস্য আলোকচিত্র ধারণ করা হয়েছিল, যা আজ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চকর গল্পে পরিণত হয়েছে। সেই ছবিতে বার্সেলোনার তৎকালীন ২০ বছর বয়সী উদীয়মান মহাতারকা লিওনেল মেসির কোলে দেখা গিয়েছিল পাঁচ মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুকে। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, মেসির স্নেহে থাকা সেই ছোট্ট শিশুই একদিন ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে স্পেনের জার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে। ফুটবল ইতিহাসের এই মধুর কাকতালীয় উপাখ্যানের মূল নায়ক আর কেউ নন, তিনি আজকের স্প্যানিশ ফুটবল সেনসেশন লামিন ইয়ামাল।

এই ঐতিহাসিক ছবিটির পেছনে রয়েছে এক চমৎকার চ্যারিটি বা দাতব্য উদ্যোগের গল্প। আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং কাতালুনিয়ার স্থানীয় সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’ যৌথভাবে একটি বিশেষ চ্যারিটি ক্যালেন্ডার তৈরির উদ্দেশ্যে লটারির আয়োজন করেছিল। সেই ভাগ্যপরীক্ষায় বিজয়ী হয়েছিল কাতালুনিয়ার মাতারো অঞ্চলের এক অত্যন্ত সাধারণ ও অভাবী পরিবার। পুরস্কার হিসেবে তাদের পাঁচ মাস বয়সী ফুটফুটে সন্তানকে বার্সেলোনার কোনো এক তারকার সাথে ছবি তোলার সুযোগ দেওয়া হয়। ভাগ্যের কী অপূর্ব লিখন, লটারির মাধ্যমে সেই ছোট্ট ইয়ামালের মায়ের কোলেই মেসির সাথে ছবি তোলার সুযোগটি এসে পড়ে।

ছবির পেছনের গল্পটি শেয়ার করতে গিয়ে আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে এক মজার তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেসি সেই তরুণ বয়সে অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের ছিলেন। একটি প্লাস্টিকের টাব ভর্তি পানিতে থাকা পাঁচ মাসের ছোট্ট ইয়ামালকে কীভাবে স্পর্শ করবেন বা কোলে তুলে নেবেন, তা নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছিলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। পরবর্তীতে ইয়ামালের মা শেইলা ইবানা এগিয়ে আসেন এবং মেসিকে শিশুটিকে কোলে নিতে সাহায্য করেন। এভাবেই ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি হয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং অবিস্মরণীয় এক মুহূর্ত।

মজার ব্যাপার হলো, ইয়ামালের বাবা তাঁর ছেলের ওপর যাতে কোনো বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি না হয় এবং মেসির সাথে আগাম কোনো তুলনা শুরু না হয়, সেজন্য দীর্ঘ ১৭ বছর এই ছবিগুলো সবার আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের ইউরো কাপ চলাকালীন তিনি প্রথমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ছবিগুলো প্রকাশ করেন এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে বিদায় করে স্পেনের ফাইনালে ওঠার পর ফুটবলপ্রেমীরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রসিকতা করে বলছেন, মেসি হয়তো সেই ড্রেসিংরুমের গোসলের পানির মাধ্যমেই নিজের জাদুকরী ফুটবলীয় ঐশ্বরিক শক্তি ও আশীর্বাদ ছোট্ট ইয়ামালের শরীরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, যার ফল আজকের এই বিশ্বজয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর