স্পোর্টস ডেস্ক:
আটলান্টার মাঠ তখন নীল-সাদা উৎসবে মাতোয়ারা। ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থেকেও মাত্র সাত মিনিটের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার রকেট গতির শটের পর যোগ করা সময়ে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস থেকে বদলি ফুটবলার লাউতারো মার্তিনেজের সেই বুলেট হেড—আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে। তবে নাটকীয় এই জয়ের মাহাত্ম্য কেবল ফাইনালের টিকিট পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এর মাধ্যমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের এক অনন্য ও বিরল রেকর্ডের পাতায় নিজেদের নাম জুড়ে দিল লিওনেল মেসির দল।
কাতারে ২০২২ সালের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর এবার টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ব্যাক-টু-ব্যাক ফাইনাল খেলার এই গৌরবময় কীর্তি এর আগে দেখিয়েছে ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮), ব্রাজিল (১৯৫৮ ও ১৯৬২), স্বয়ং আর্জেন্টিনা (১৯৮৬ ও ১৯৯০), পুনরায় ব্রাজিল (১৯৯৪ ও ১৯৯৮) এবং সবশেষ ফ্রান্স (২০১৮ ও ২০২২)। এবার সেই অভিজাত তালিকায় নতুন পালক হিসেবে যুক্ত হলো ২০২২ ও ২০২৬ সালের আর্জেন্টিনা।
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এটি আর্জেন্টিনার দ্বিতীয়বারের মতো টানা ফাইনাল খেলার নজির হলেও, তারা মূলত স্পর্শ করেছে ফুটবলের সাম্বা কিংবদন্তিদের এক অনন্য রেকর্ডকে। বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে ব্রাজিলই একমাত্র দল ছিল, যারা দুটি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঠিক পরের বিশ্বকাপেও ফাইনালের টিকিট কেটেছিল। সেলেসাওরা প্রথম এই কীর্তি গড়েছিল ১৯৫৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৬২ সালের ফাইনালে উঠে, এবং দ্বিতীয়বার দেখায় ১৯৯৪ সালের ট্রফি জয়ের পর ১৯৯৮ সালের আসরে ফাইনালে পৌঁছে। এবার ব্রাজিলিয়ানদের সেই একক রাজত্বে ভাগ বসিয়ে নিজেদের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল আর্জেন্টিনা।
কাতারে বিশ্বজয়ের পর থেকেই কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে নিজেদের অপরাজেয় ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তারা উপহার দিয়েছে নিখুঁত, পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল। বিশেষ করে সেমিফাইনালের মঞ্চে শক্তিশালী ইংলিশদের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পরও যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে, তা দলটির মানসিক ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তারই প্রমাণ দেয়।
এখন মেসি বাহিনীর সামনে সুযোগ ব্রাজিলের আরও একটি কিংবদন্তিসম কীর্তিকে স্পর্শ করার। আগামী ২০ জুলাই ফাইনালে যদি তারা স্পেনের বাধা পার করতে পারে, তবে টানা দুই আসরে বিশ্বজয়ের রাজমুকুট পরবে আর্জেন্টিনা। ১৯৬২ সালে পেলে-গারিঞ্চাদের ব্রাজিলের পর গত ৬৪ বছরে বিশ্বের আর কোনো দেশ নিজেদের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে শুধু রেকর্ডে ভাগ বসানোই নয়, ব্রাজিলের সেই অক্ষুণ্ণ সাম্রাজ্য ভাঙার এক সুবর্ণ সুযোগ এখন মেসিদের সামনে দাঁড়িয়ে।